তারাতলা বিপর্যয়ে গাফিলতির চরম নিদর্শন! শ্রমিকদের কোনও রেজিস্টারই নেই

তারাতলায় নির্মাণাধীন গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় সামনে এল গাফিলতির চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিপর্যয়ের চব্বিশ ঘণ্টা পরেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চললেও, ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক চাপা পড়ে আছেন তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার অ্যাডিশনাল সিপি (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানান, এত বড় একটি গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের কাজ চললেও সেখানে শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনও রেজিস্টারই ছিল না। ফলস্বরূপ উদ্ধারকাজ ও তদন্তে চরম হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে সিট-কে।
গাফিলতির বলি ১১ জন
বন্দর কর্তৃপক্ষের থেকে লিজ নেওয়া জমিতে এই গুদামটি তৈরি করছিলেন শম্ভুনাথ বহেরা। নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল ঠিকাদারি সংস্থা ‘অয়ন ট্রেডার্স’ এবং কাজটি পরিচালনা করছিলেন আসগার হোসেন। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে আসগার-সহ মোট ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৯ জন গুরুতর আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মৃত আসগার-সহ একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
লালবাজারের নজরে কলকাতা পুরসভা
এই দুর্ঘটনা শহরের নির্মাণকাজ সংক্রান্ত নজরদারি এবং প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যা আগামী দিনে প্রশাসনের ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আনতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই কলকাতা পুরসভা এই গুদাম নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল। পুরসভার ছাড়পত্র মেলার পরেই কীভাবে এমন বিপজ্জনকভাবে এবং নথিপত্র ছাড়া কাজ চলছিল, তা খতিয়ে দেখতে লালবাজারের তরফে পুরসভার কাছে বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি ছাড়া এহেন বিশাল নির্মাণকাজ শহরের অন্যান্য পরিকাঠামোগত প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।