২০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস! বজ্রপাত ও হড়পা বানের আশঙ্কায় কাঁপছে বাংলা

২০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস! বজ্রপাত ও হড়পা বানের আশঙ্কায় কাঁপছে বাংলা

সকালের ঝলমলে রোদ নিমেষেই ঢেকে গেল ঘোর অন্ধকারে। আচমকা আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে তুমুল বৃষ্টি ও মুহুর্মুহু বজ্রপাতে কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জন্য জারি হওয়া লাল সতর্কতা ও পাহাড়ি নদীতে হড়পা বানের আশঙ্কা গোটা রাজ্যের দুর্যোগ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়িয়ে তুলেছে।

জলমগ্ন তিলোত্তমা ও দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি

দুপুর গড়াতেই কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলিতে শুরু হয় প্রবল বর্ষণ, যার জেরে নিমেষেই স্তব্ধ হয়ে যায় জনজীবন। একনাগাড়ে বৃষ্টির ফলে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, স্ট্র্যান্ড রোড, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি থেকে শুরু করে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয় যান চলাচল। কলকাতা ছাড়াও বাঁকুড়া, নদিয়া এবং মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতেও ঝড়ো হাওয়া-সহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় ঘনীভবন ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাবেই এই আচমকা দুর্যোগ। জুন মাসের শেষে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তরে লাল সতর্কতা ও বিপর্যয়ের শঙ্কা

দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও ঘনাচ্ছে চরম বিপদের মেঘ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর উত্তরের পাঁচ জেলা—দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে চরম ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করেছে। আগামী রবি, সোম এবং মঙ্গলবার এই জেলাগুলিতে একদিনে ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির প্রভাবে সিকিম ও দার্জিলিং পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে নতুন করে ধস নামার প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, পাহাড়ি নদীগুলিতে হড়পা বান এবং সিকিম ও ভুটান থেকে নেমে আসা জলের কারণে ডুয়ার্স অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *