পশ্চিমবঙ্গেও কি এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, সোমবারে আসছে ঐতিহাসিক বিল!

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড়সড় মোড় আসতে চলেছে। উত্তরাখণ্ড, গুজরাট ও আসামের পর এবার এই রাজ্যেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করার লক্ষ্যে বিরাট পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। আগামী সোমবার বিধানসভার একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, যেখানে এই বহুচর্চিত বিলটি পেশ করা হবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দেশজুড়ে ‘এক দেশ, এক আইন’ বাস্তবায়নের যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, এই পদক্ষেপ তারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক দেশ এক আইনের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল উদ্দেশ্য হলো জাতি, ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের সমস্ত নাগরিকের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি বন্টন ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একটি একক আইনি কাঠামো তৈরি করা। এর আগে প্রথম রাজ্য হিসেবে উত্তরাখণ্ডে এই বিধি কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে বহুগামিতা নিষিদ্ধ করা এবং লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার মতো কঠোর নিয়ম আনা হয়েছে। পরবর্তীতে গুজরাট ও আসামেও এই আইন পাসের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ চতুর্থ রাজ্য হিসেবে এই তালিকায় নাম লেখাতে চলেছে। রাজ্যে এই আইন কার্যকর হলে তা পারিবারিক ও সামাজিক আইনি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে এবং দীর্ঘদিনের পৃথক প্রথাগত আইনের অবসান ঘটাবে।
দুর্নীতি দমনেও আসছে কঠোর আইন
সোমবারের এই বিশেষ অধিবেশনে কেবল অভিন্ন দেওয়ানি বিধিই নয়, দুর্নীতি দমনে আরও একটি অত্যন্ত কঠোর বিল পেশ করা হতে চলেছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, নতুন এই বিলে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার বিধান থাকছে। কোনো ব্যক্তি দুর্নীতিতে দোষী প্রমাণিত হলে কেবল আইনি শাস্তিই নয়, তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও সরকারের হাতে চলে আসবে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে এই আইন অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই জোড়া বিল পাস হলে রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।