তারাতলা বিপর্যয়ের নেপথ্যে কোন গাফিলতি, আসল কারণ খুঁজতে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য!

কলকাতা লাগোয়া তারাতলার ভয়াবহ কারখানা বিপর্যয়ের ঘটনায় নড়েচড়ে বসল রাজ্য সরকার। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। ঘটনার ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ ও চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য একটি ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডের সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার।
কমিটির গঠন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান
প্রশাসনিক ও কারিগরি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই বিশেষ কমিটিতে বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ কর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নগর উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শ্রম দফতর এবং কলকাতা পুরনিগমের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ কমিশনার এই কমিটিতে রয়েছেন। এছাড়া পরিকাঠামো ও নির্মাণ ত্রুটি খতিয়ে দেখতে আইআইটি খড়্গপুর, রাইটস (RITES) এবং ইরকন (IRCON)-এর কারিগরি বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়েছে। এই কমিটির মূল কাজ হলো বহুতলটি ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ ও গাফিলতি চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের মারাত্মক কাঠামোগত বিপর্যয় আর না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা।
চলতি উদ্ধারকাজ ও আইনি তৎপরতা
এদিকে দুর্ঘটনাস্থলে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। সেনাবাহিনীর আশঙ্কা অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ থেকে ১১ জন আটকে থাকতে পারেন, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিপর্যয়ের প্রাথমিক তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫ সদস্যের একটি ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের এই কমিটির রিপোর্ট জমা পড়লে দোষীদের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা রাজ্যের আবাসন ও শিল্প পরিকাঠামো নির্মাণে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাধ্য করবে।