‘সিবিআই না পারলে তদন্তভার নিক সিআইডি!’ আরজি কর কাণ্ডে ক্ষুব্ধ নির্যাতিতার মা, ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

কলকাতা: আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের জঘন্য ঘটনার তদন্তভার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই (CBI)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় এবার চূড়ান্ত হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করল খোদ নির্যাতিতার পরিবার। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে শুনানিপর্বে বিস্ফোরক দাবি তুলে নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যদি তদন্ত সঠিকভাবে চালাতে ব্যর্থ হয়, তবে এই দায়িত্ব রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়া হোক।
একইসঙ্গে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে এদিন সিবিআই-কে কার্যত তুলোধোনা করেছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও।
পরিবারের ক্ষোভ: “৩ জনের নাম দেওয়া সত্ত্বেও জেরা করা হয়নি!”
আদালতে নির্যাতিতার মায়ের আইনজীবীর তরফ থেকে সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে একাধিক মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়েছে:
- নির্দিষ্ট নামের ভিত্তিতে নিষ্ক্রিয়তা: তদন্তের স্বার্থে পরিবারের তরফ থেকে নির্দিষ্ট ৩ জন সন্দেহভাজনের নাম সিবিআই-কে জানানো হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এখনও পর্যন্ত তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজনটুকুও বোধ করেনি।
- একক অভিযুক্ত তত্ত্বে অনাস্থা: সিবিআই এখনও পর্যন্ত এই জঘন্য অপরাধের পেছনে কেবল একজনকে (ধৃত সঞ্জয় রায়) যুক্ত বলে মনে করছে, যা পরিবার কোনোভাবেই মানতে নারাজ।
- প্রভাবশালীদের আড়ালের আশঙ্কা: পরিবারের দৃঢ় বিশ্বাস, এই ঘটনার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র এবং একাধিক প্রভাবশালী মাথা জড়িত। সিবিআই মূল চক্রীদের আড়াল করে তদন্তের অভিমুখ ঘোরানোর চেষ্টা করছে কি না, সেই সন্দেহ থেকেই তাঁরা তদন্তভার সিআইডি-কে দেওয়ার আরজি জানিয়েছেন।
“কোনো অগ্রগতি নেই!” হাইকোর্টের নজিরবিহীন ভর্ৎসনা
এদিনের শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআইয়ের কেস ডায়েরি ও পূর্ববর্তী নথিপত্র খতিয়ে দেখে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। আদালত কক্ষে সিবিআই-এর আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতিরা স্পষ্ট জানান:
- এত দীর্ঘ সময় পাওয়ার পরেও তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বা ‘ব্রেক-থ্রু’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
- আরজি করের মতো এত স্পর্শকাতর ও জঘন্য অপরাধের তদন্তে এই ধরণের শিথিলতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। অবিলম্বে আসল সত্য সামনে আনা প্রয়োজন।
আগস্টে পরবর্তী শুনানি
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই-কে কড়া নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী শুনানির আগে তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরিবারের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিক কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে নতুন রিপোর্টের আকারে জমা দিতে হবে। আগামী আগস্ট মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। আদালতের এই কড়া হুঁশিয়ারি এবং পরিবারের এমন বিস্ফোরক দাবির পর এখন সিবিআই-এর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।