সূর্য ডুবলেই শিস, দরজার নিচে জীবন্ত সমাধি! লোহাগড় দুর্গ কি সত্যিই অভিশপ্ত?

সূর্য ডুবলেই শিস, দরজার নিচে জীবন্ত সমাধি! লোহাগড় দুর্গ কি সত্যিই অভিশপ্ত?

মহারাষ্ট্র: পুনের কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফের চর্চায় উঠে এসেছে মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ‘লোহাগড় ফোর্ট’। লোনাভালার কাছে অবস্থিত এই দুর্গের একদিকে যেমন রয়েছে ২ হাজার বছরের পুরনো গৌরবময় ইতিহাস, তেমনই অন্যদিকে রয়েছে গা ছমছমে রহস্য আর ভয়ংকর সব কিংবদন্তি।

কেন লোহাগড়কে ঘিরে রয়েছে রহস্যের জাল?

সাতবাহন রাজাদের হাত ধরে তৈরি এই দুর্গে পরবর্তীকালে নিজামশাহী, মুঘল এবং ছত্রপতি শিবাজির শাসনকাল পর্যন্ত নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। তবে ইতিহাসের চেয়েও এই দুর্গ বেশি বিখ্যাত এর অদ্ভুত সব অলৌকিক কাহিনির জন্য।

গণেশ দরওয়াজার বিভীষিকা:

লোহাগড়কে ঘিরে সবচেয়ে ভয়ংকর কিংবদন্তি রয়েছে এর ‘গণেশ দরওয়াজা’কে ঘিরে। লোককথা অনুযায়ী, দুর্গ নির্মাণের সময় এই প্রবেশদ্বারে নরবলি দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, দরজার নিচে নাকি এক নারী ও পুরুষকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল। আজও পর্যটকদের অনেকে দাবি করেন, সূর্য ডুবলেই এখানে ভেসে আসে অশরীরী ছায়া, পায়ের আওয়াজ বা শিসের মতো অদ্ভুত শব্দ।

পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় ভূত?

অনেকেই ট্রেকিং করতে গিয়ে দাবি করেছেন, ভোরের আবছা আলোয় দুর্গের প্রাচীরের কাছে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন, আবার কাছে গেলেই তিনি মিলিয়ে যান। দূর থেকে পাহারাদারের মতো কাউকে দেখা যাওয়া এবং মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও পর্যটকদের মুখে শোনা যায়। যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক বা ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গের প্রাচীন পাথুরে গঠন এবং প্রবল বাতাসের ঝাপটায় এমন অস্বাভাবিক শব্দ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

গোপন সুড়ঙ্গ ও গুপ্তধনের হাতছানি:

ভূতের গল্পের পাশাপাশি এই দুর্গ ঘিরে রয়েছে গুপ্তধনের হাতছানি। অনেকের বিশ্বাস, দুর্গের নিচে অসংখ্য গোপন সুড়ঙ্গ রয়েছে, যেখানে লুকিয়ে আছে প্রাচীনকালের বিপুল সম্পদ। সত্যতা প্রমাণিত না হলেও এই রহস্যময় হাতছানিই প্রতি বছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটককে লোহাগড়ের দুর্গম পথে টেনে আনে।

ইতিহাস আর অলৌকিকের এমন মিশেল লোহাগড়কে ভারতের অন্যতম রহস্যময় দুর্গের তকমা দিয়েছে। আপনি কি সাহস করবেন এই ‘লোহার দুর্গে’ পা রাখতে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *