মাস্কের পরেই বিশ্বসেরা বাঙালি! যাদবপুরের প্রাক্তনী শঙ্খ মিত্রের আয়ের অঙ্ক শুনলে চমকে উঠবেন

কলকাতা: ফের বিশ্বমঞ্চে বাঙালির জয়জয়কার। অদম্য মেধা আর কঠোর পরিশ্রমে ভর করে আন্তর্জাতিক কর্পোরেট দুনিয়ার শীর্ষে পৌঁছে গেলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী শঙ্খ মিত্র। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (CEO) তালিকায় ইলন মাস্কের পরেই জায়গা করে নিলেন এই বাঙালি ইঞ্জিনিয়ার।
যাদবপুর থেকে ওয়াল স্ট্রিট: এক রূপকথার যাত্রা
কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পর, ২০০২ সালে বহুজাতিক সংস্থা ‘প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস’ (PwC)-এর হাত ধরে আমেরিকায় পাড়ি জমান শঙ্খবাবু। এরপর কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুল থেকে MBA ডিগ্রি অর্জন করে বিনিয়োগ পরিচালনার জগতে (Investment Management) নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে শুরু করেন। ফিডেলিটি এবং সিটাডেলের মতো সংস্থায় কাজ করার পর ২০১৬ সালে তিনি যোগ দেন আমেরিকার প্রথম সারির রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট—‘ওয়েলটাওয়ার ইনকর্পোরেশন’ (Welltower Inc.)-এ। নিজের যোগ্যতায় মাত্র চার বছরের মাথায় ২০২০ সালে সংস্থার CEO পদে আসীন হন তিনি।
আকাশছোঁয়া প্যাকেজ
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, শঙ্খ মিত্রের বার্ষিক মোট পারিশ্রমিক প্রায় ৮২১ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭,৭৫১ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা)। আয়ের এই বিপুল অংকের প্রায় ৯৯ শতাংশই আসে সংস্থার শেয়ার বা স্টক গ্রান্ট থেকে।
চলতি বছরের আয়ের নিরিখে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক। তাঁর ধারেকাছে থাকা শঙ্খ মিত্রের এই সাফল্য গোটা দেশের কাছে এক দারুণ অনুপ্রেরণা। কর্পোরেট দুনিয়ার কঠিন প্রতিযোগিতায় যোগ্যতার জোরে কীভাবে ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে শীর্ষে ওঠা যায়, শঙ্খ মিত্র তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন। উল্লেখ্য, এই তালিকায় প্রথম দশে রয়েছেন আরও এক ভারতীয়, ‘পালো অল্টো নেটওয়ার্কস’-এর নিকেশ অরোরা (অষ্টম স্থানে)।