‘আমার মতো মাস্ক পরে সেজেছে কেউ!’ ভাইরাল ভিডিও বিতর্কে নয়া দাবি ভগবন্ত মানের

‘আমার মতো মাস্ক পরে সেজেছে কেউ!’ ভাইরাল ভিডিও বিতর্কে নয়া দাবি ভগবন্ত মানের

চণ্ডীগড়: ডন সিনেমার সেই বিখ্যাত ‘সিলিকন মাস্ক’ ব্যবহারের দৃশ্যটি যেন বাস্তব রূপ নিল পাঞ্জাবের রাজনীতির ময়দানে! নিজের একটি আপত্তিকর ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুলে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এমন এক বিস্ফোরক দাবি করলেন, যা ঘিরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মানের দাবি, ওই ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, তিনি আসলে ‘আমি নই’, বরং আমার মতো দেখতে কোনো মুখোশ পরে অন্য কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজ করেছে।

কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে ফের সুর চড়িয়ে ভগবন্ত মান দাবি করেন, এটি তাঁর বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আধুনিক প্রযুক্তি, এডিটিং এবং ছদ্মবেশ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ধর্মকে ঢাল করে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে।

ভিডিও ঘিরে বিতর্ক ও ফরেনসিক টানাপোড়েন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে শিখ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন আচরণ করতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দাবি করা হচ্ছিল, ওই ব্যক্তি খোদ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। যদিও আম আদমি পার্টির (AAP) পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

দলের দাবি:

  • রাজ্যের বাইরের দুটি স্বাধীন ল্যাবরেটরিতে ভিডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হয়েছে।
  • রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি কোনোভাবেই ভগবন্ত মান নন।

তদন্তে নয়া মোড়:

এই বিতর্কের মধ্যেই গুরুগ্রাম পুলিশ ভিডিও সংক্রান্ত ফরেনসিক রিপোর্ট প্রভাবিত করার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীরা এখন এর পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন বা ডিজিটাল জালিয়াতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

অন্যদিকে, বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়ে তাঁর থেকে স্পষ্ট জবাবদিহি দাবি করেছে। শিখ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রতিবাদে নেমেছে। আপের পাল্টা দাবি, পুরো বিষয়টিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা জানিয়েছে, সমস্ত ডিজিটাল তথ্য ও প্রমাণ আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হোক।

ভিডিওর ওই ব্যক্তি কি সত্যিই মান, নাকি প্রযুক্তির কারসাজি আর মুখোশের আড়ালে চলছে নোংরা রাজনীতি? এই প্রশ্নই এখন উত্তপ্ত করে রেখেছে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক আকাশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *