ঝড়-বৃষ্টির ভ্রূকুটি তুচ্ছ, ‘বেইমান নই’ স্লোগানে উত্তাল তৃণমূলের কর্মিসভা! দিদির পাশে থাকার শপথ

ঝড়-বৃষ্টির ভ্রূকুটি তুচ্ছ, ‘বেইমান নই’ স্লোগানে উত্তাল তৃণমূলের কর্মিসভা! দিদির পাশে থাকার শপথ

কলকাতা: বৃহস্পতিবার প্রবল দুর্যোগ ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির ভ্রূকুটিকে উপেক্ষা করেই জনপ্লাবনে পরিণত হলো উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মিসভা। ‘আমরা বেইমান নই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রামমোহন হলের সভা যেন এক নতুন রাজনৈতিক বার্তার জন্ম দিল।

দুর্যোগ ছাপিয়ে বাঁধভাঙা ভিড়

ভারী বৃষ্টির কারণে মাঠের পরিবর্তে হলঘরে সভা সরিয়ে আনতে হলেও মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হলঘর ছাপিয়ে বাইরেও দাঁড়িয়ে ভিজেছেন অগণিত কর্মী-সমর্থক। জেলা সভাপতি কুণাল ঘোষ জানান, দুর্যোগের কারণে অনেক জায়গা থেকেই সভা স্থগিতের অনুরোধ এসেছিল, কিন্তু কর্মীদের উৎসাহ ছিল দেখার মতো। এই বৈঠকের মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন আসে, যা কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

স্মৃতিচারণ ও বেইমানদের কড়া বার্তা

সভায় বক্তারা দলত্যাগী ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রীতিমতো তোপ দাগেন। বিধায়ক বিজয় উপাধ্যায় আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “যতই ঝড়-বৃষ্টি আসুক, আমরা দিদির লোক ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমার নামে মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি বেইমান নই।” এছাড়া প্রকাশ উপাধ্যায়ের মতো নেতারাও বর্তমান নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দলের সুবিধা নিয়ে যারা পিঠে ছুরি মারছে, তাদের ভবিষ্যতে কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন।

নতুন দায়দায়িত্ব ও ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি

সভার মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল আগামী ২১ জুলাইয়ের শহিদ তর্পণ কর্মসূচি। সেইসাথে সাংগঠনিক রদবদলও ঘটল এদিনের মঞ্চে:

  • শক্তিপ্রতাপ সিং: তাঁকে জেলা যুব সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করলেন কুণাল ঘোষ।
  • মৃত্যুঞ্জয় পাল: তাঁকে রাজ্যের যুব স্টিয়ারিং কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে।

স্মিতা বক্সি, কৃষ্ণপ্রতাপ সিং, দেবিকা চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট নেতাদের উপস্থিতিতে এই সভা নতুন করে কর্মীদের মধ্যে একতা ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেছে। কুণাল ঘোষ জানান, যারা আজকের সভায় আসতে পারেননি, তাঁদের নিয়ে খুব শীঘ্রই আরও বড় মাপের সভা করা হবে এবং এরপর জোন ভিত্তিক বৈঠক শুরু হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *