দাদাগিরির মঞ্চে সৌরভের উত্তরসূরি দেব! যিশু-আবিরের মন্ত্রে কাটল ভয়

টেলিভিশনের পর্দায় ‘দাদাগিরি’ মানেই আপামর বাঙালির কাছে সমার্থক ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে এবার সেই চেনা সমীকরণে বড়সড় রদবদল। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলার ‘বিগ বস’ সঞ্চালনার দায়িত্ব নেওয়ায়, তাঁর জুতোয় পা গলাচ্ছেন টলিউড সুপারস্টার দেব। খোদ দেব এই খবরে সিলমোহর দিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে এসেছে এই শোয়ের বহু প্রতীক্ষিত প্রোমো। তবে বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তৈরি হওয়া সৌরভের বিশাল জনপ্রিয়তার চাপ প্রথমটায় কিছুটা নার্ভাস করে তুলেছিল সাংসদ-অভিনেতাকে।
যিশু-আবিরের ভরসায় নতুন শুরু
সদ্য প্রকাশ্যে আসা প্রোমোতে দেবের সেই সংকোচ এবং তা কাটিয়ে ওঠার চিত্রই নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রোমোতে খোদ সুপারস্টারকে দুরুদুরু বুকে বলতে শোনা যায়, ‘কোথায় দাদা আর কোথায় আমি’। সৌরভের মতো এক কিংবদন্তির জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতে গিয়ে রীতিমতো দ্বিধায় ছিলেন তিনি। তবে সেই ভয় কাটাতে দেবের পাশে দাঁড়িয়েছেন চ্যানেলেরই আরও দুই জনপ্রিয় সুপারস্টার সঞ্চালক যিশু সেনগুপ্ত এবং আবির চট্টোপাধ্যায়। দেবের কাঁধে হাত রেখে ভরসা জুগিয়ে যিশুর অভয়বাণী, ‘আমরা পারলে তুই পারবি না?’ আর আবিরের সংযোজন, ‘তোমার ময়দানে তুমিও তো দাদা’। সহকর্মীদের এই আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত দাদাগিরির মঞ্চে নতুন রূপে অবতীর্ণ হতে সাহস জুগিয়েছে দেবকে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও দর্শক প্রতিক্রিয়া
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিজস্ব সঞ্চালনার স্টাইল এবং উপস্থিত বুদ্ধির কারণে ‘দাদাগিরি’ বরাবরই অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। তাই সঞ্চালক হিসেবে তাঁর জায়গায় দেবের আগমন দর্শকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। একাংশ যেমন সৌরভের শূন্যতা অনুভব করছেন এবং দেবের বাচনভঙ্গি নিয়ে সন্দিহান, তেমনই দেবের অগুনতি অনুরাগী তাঁদের প্রিয় তারকাকে নতুন ভূমিকায় দেখতে প্রবল উৎসাহী। এপ্রিলের শেষে গঙ্গার ঘাট ও কলকাতার অলিগলিতে শুট হওয়া এই ‘নতুন বাংলার নতুন দাদাগিরি’ কতটা সফল হবে, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে দেব কীভাবে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে দর্শকদের মন জয় করতে পারেন তার ওপর। আপাতত টিভির পর্দায় এই নতুন মহারণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন দর্শক।