মত্ত অবস্থায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রক্ষীর জামিন খারিজ করল আদালত!

মত্ত অবস্থায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রক্ষীর জামিন খারিজ করল আদালত!

কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (PSO) সঞ্জু শর্মার বিরুদ্ধে ওঠা এক মহিলা এবং তাঁর নাবালিকা কন্যাকে মারাত্মক হেনস্থার মামলায় কড়া অবস্থান নিল আদালত। আলিপুর আদালতে সঞ্জুর জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার মাত্র ২২ দিনের মাথায় তদন্ত শেষ করে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ এই মামলায় চার্জশিট পেশ করেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি সওয়াল-জবাব

শুনানির দিন আলিপুর আদালতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অভিযুক্তকে হাজির করা হয়। শুনানিতে সঞ্জুর আইনজীবী দাবি করেন যে, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং পুলিশ ইতিমধ্যেই চার্জশিট জমা দিয়ে দেওয়ায় তাঁর মক্কেলের জামিন মঞ্জুর করা উচিত। পালটা সরকারি আইনজীবী ও মূল অভিযোগকারিণীর আইনজীবী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, জামিন পেলে অভিযুক্ত সাক্ষীদের ভয় দেখাতে বা প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক স্পষ্ট জানান, অভিযোগকারিণী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে সঞ্জুর বিরুদ্ধে যথেষ্ট জোরালো প্রমাণ রয়েছে। অপরাধের সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করেই আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করেছে।

ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই অনভিপ্রেত ঘটনার সূত্রপাত মূলত শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমানোকে কেন্দ্র করে। সাত জনের বদলে রক্ষীর সংখ্যা তিন জন হওয়ার পর থেকেই সঞ্জু শর্মা ‘পনেরো দিন কাজ ও পনেরো দিন ছুটি’-র অবাস্তব দাবি তুলেছিলেন। সেই দাবি খারিজ হওয়ার ক্ষোভ থেকেই এই অপরাধের সূত্রপাত। অভিযোগ, ঘটনার দিন ডিউটিতে যেতে অস্বীকার করে মত্ত অবস্থায় সঞ্জু ওই বাড়িতে চড়াও হন। তিনি এক নাবালিকাকে হেনস্থার চেষ্টার পাশাপাশি বাধা দিতে আসা অন্যান্য কর্মীদের মারধর করেন এবং নাবালিকার মাকে জোর করে ঘরে আটকে রেখে হুমকি দেন।

খোদ ভিআইপিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক রক্ষীর এমন বেপরোয়া আচরণ পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে মাত্র ২২ দিনের মধ্যে পুলিশের চার্জশিট পেশ এবং আদালতের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, নারী ও শিশুদের উপর এই ধরনের সংবেদনশীল অপরাধের ক্ষেত্রে প্রশাসন জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে। আগামী ৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন নজর ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *