শেষ হচ্ছে অম্বুবাচী, সংসারের অমঙ্গল এড়াতে অবশ্যই মানুন এই নিয়মগুলি!

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আচার অম্বুবাচী সমাপ্ত হতে চলেছে। আষাঢ় মাসে সূর্যের আর্দ্রা নক্ষত্রে প্রবেশের মাধ্যমে বর্ষার সূচনা ও ধরিত্রীর ঋতুমতী হওয়ার এই সময়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তিন দিনব্যাপী এই সময়কালে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে যাবতীয় শুভ কাজ বন্ধ থাকে। তবে কেবল অম্বুবাচী চলাকালীনই নয়, এর নিবৃত্তির পর অর্থাৎ শেষেও নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম পালন করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় সংসারে ঘোর অমঙ্গল বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে বলে শাস্ত্রে সতর্ক করা হয়েছে।
নিয়ম পালনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচীর তিন দিন পৃথিবীকে অশুচি হিসেবে গণ্য করা হয়। আগামী শুক্রবার রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে অম্বুবাচীর নিবৃত্তি ঘটবে এবং এর মাধ্যমে পৃথিবীর অশৌচ দশা কেটে যাবে। নিবৃত্তির পর সঠিক শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজে ফিরতে হয়। এই নিয়মগুলি সঠিকভাবে পালন না করলে যেমন কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তেমনই গৃহস্থের সংসারে দুর্ভাগ্য নেমে আসার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
নিবৃত্তির পর করণীয়
অম্বুবাচী শেষ হওয়ার পরদিন সকালে দৈনন্দিন জীবনে কিছু বিশেষ শুদ্ধিকরণ অত্যন্ত জরুরি। সর্বপ্রথম গৃহস্থালি পরিষ্কার করার পাশাপাশি ঘরের সমস্ত জামাকাপড় ও বিছানার চাদর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিজেকেও সাবান বা শ্যাম্পু দিয়ে স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করতে হবে। এরপর ঠাকুরঘরে দেবদেবীর মূর্তি ও আসন থেকে আচ্ছাদন বা কাপড় সরিয়ে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে ভক্তিভরে পুজো দিতে হবে। এই শুদ্ধিকরণ পর্ব সম্পন্ন হলেই নতুন করে চাষাবাদের কাজ এবং বিবাহ, অন্নপ্রাশন বা গৃহপ্রবেশের মতো যে কোনও মাঙ্গলিক কাজ বিনা বাধায় শুরু করা যাবে।