সর্ষের মধ্যেই ভূত! রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ৭০ বার চেষ্টা

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের পাঠানো অনুদানের অর্থ চুরির তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যে অন্তত ৭০ বার অনুদান চুরির চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাস্টের অভ্যন্তরেই বড়সড় গাফিলতি ও যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় চরম গাফিলতির প্রমাণ
তদন্তে উঠে এসেছে যে, শুধুমাত্র চুরির চেষ্টাই নয়, অনুদানের অর্থ গণনার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াতেই চরম অব্যবস্থাপনা ছিল। ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টে দেখা গেছে, আর্থিক লেনদেনের নথি সংরক্ষণ, হিসাবরক্ষণ এবং সামগ্রিক তদারকির ক্ষেত্রে একাধিক গুরুতর ত্রুটি ছিল। সিটের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার অভাবই এই চুরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিল। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজে মনীশ কুমার যাদব নামে এক সন্দেহভাজনকে বারবার দেখা গেলেও তৎকালীন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া কর্তৃপক্ষের বড় উদাসীনতাকে স্পষ্ট করে।
গ্রেফতার আট এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ
এই আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই আট জনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে ট্রাস্ট কর্তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, সিটের চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আগামীতে গ্রেফতারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই ঘটনার প্রভাবে ভক্তদের বিশ্বাস ও মন্দিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সনাতন ধর্মের প্রতীক অযোধ্যার মর্যাদা রক্ষায় প্রকৃত দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে এবং তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।