বইয়ের বদলে কাঁধে ইট, তারাতলায় ধ্বংসস্তূপে প্রাণ গেল ৩ নাবালকের; সরব শ্রমমন্ত্রী

কলকাতা: যে বয়সে স্কুলের বেঞ্চে বসে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সে জীবিকার লড়াই করতে গিয়ে তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ধ্বংসস্তূপেই চিরতরে হারিয়ে গেল তিনটি তাজা প্রাণ। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত তিনজন নাবালক বলে নিশ্চিত করেছে লালবাজার। এই ঘটনায় নির্মাণকাজে বেআইনিভাবে নাবালকদের নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
কীভাবে ফাঁস হলো ঘটনা?
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা রাহুল চৌধুরীর পরিচয়পত্র যাচাই করতে গিয়েই দেখা যায়, তাঁর বয়স ১৮ বছরের নিচে। এরপর তদন্তে সাহিল সর্দার ও ঘি কুমার নামে আরও দুই কিশোরের খোঁজ মেলে, যাদের বয়সও ১৭ বছর। অর্থাৎ, নির্মাণস্থলে মৃত্যু হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত তিনজনই শিশুশ্রমিক। এই ঘটনায় সিট (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
কী বললেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং?
নাবালকদের ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজে নিয়োগকে ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়ে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, “১৮ বছরের কম বয়সিদের দিয়ে কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী কঠোর মামলা দায়ের করা হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দারিদ্র্যের কারণেই পরিবারগুলো শিশুদের কাজে পাঠাতে বাধ্য হয়। তবে এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। শিশুশ্রম রুখতে আমরা আরও বড় ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”
নথিভুক্ত শ্রমিক নিয়ে উদ্বেগ
শ্রমমন্ত্রী জানান, ধসে নিহত শ্রমিকদের মধ্যে মাত্র একজন শ্রমদফতরে নথিভুক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, সব শ্রমিক নথিভুক্ত থাকলে সরকারি ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা প্রদান অনেক সহজ হতো। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এই বিপর্যয়ের ঘটনায় গুদামের মালিকসহ মোট ৫ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখন দেখার, তদন্তের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রীদের কত দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়।