লেকটাউনের ছায়া এবার আর্জেন্টিনায়, জন্মভূমিতেই হাসির খোরাক মেসির বিশাল মূর্তি!

লেকটাউনের ছায়া এবার আর্জেন্টিনায়, জন্মভূমিতেই হাসির খোরাক মেসির বিশাল মূর্তি!

কলকাতার লেকটাউন থেকে আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়া—প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটারের ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে দিল লিওনেল মেসির একটি মূর্তি। বিশ্বকাপ চলাকালীন গত ১৬ জুন পাতাগোনিয়ায় উন্মোচিত হওয়া মেসির ৮৫ ফুট উঁচু বিশাল ভাস্কর্যটি এখন তীব্র সমালোচনার মুখে। ব্যস্ত সড়কে দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে স্থাপিত এই মূর্তির মুখাবয়ব নিয়ে খোদ আর্জেন্টিনাতেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা ও মশকরা।

বিতর্কের কেন্দ্রে মুখাবয়ব ও অস্বাভাবিক গড়ন

প্রায় ৭০ টন স্টিল ও লোহা দিয়ে তৈরি এই মূর্তিতে মেসিকে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়, যার সামনে রাখা বিশ্বকাপ ট্রফি। কিন্তু উন্মোচনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের অভিযোগ, মূর্তির মুখের সঙ্গে বাস্তবের মেসির কোনো মিল নেই। পাশাপাশি, কোমর থেকে নিচের অংশকে অস্বাভাবিক মোটা দেখানো হয়েছে, যা খেলোয়াড়সুলভ শারীরিক গঠনের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। সমালোচকদের মতে, অন্য কাউকে যেন জোর করে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও একাংশের যুক্তি, এত বিশাল আকৃতির ভাস্কর্যে নিখুঁত মুখাবয়ব ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এটি যে মেসিরই মূর্তি তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

লেকটাউনের পুনরাবৃত্তি এবং মূর্তির নির্মাণশৈলী

মেসির মূর্তি নিয়ে এমন বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগে কলকাতার লেকটাউনে স্থাপিত মেসির মূর্তিও চেহারার অমিল এবং পরবর্তীতে নিরাপত্তার অভাবে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। লেকটাউনের সেই মূর্তি বাতাসে দুলত বলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই দিকটি মাথায় রেখেই পাতাগোনিয়ার স্থানীয় শিল্পী অলদো বেরোইসা ১৮ মাস ধরে তেল ও খনির পাইপের শক্ত ইস্পাত দিয়ে এই মূর্তিটি গড়েছেন, যাতে এটি তীব্র বাতাস সহ্য করতে পারে। মূর্তি নিয়ে চারদিকে সমালোচনা চললেও, মাঠের ফুটবলে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। চলতি বিশ্বকাপে জোড়া ম্যাচে পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন মেসি, আর তার হাত ধরেই ফের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনছে আর্জেন্টিনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *