‘সব দিয়েছে দল, তবুও কেন এই বিদ্রোহ?’ সায়নীকে নিয়ে বিস্ফোরক মহুয়া মৈত্র

‘সব দিয়েছে দল, তবুও কেন এই বিদ্রোহ?’ সায়নীকে নিয়ে বিস্ফোরক মহুয়া মৈত্র

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন এবং দলের অন্দরে একের পর এক ‘বিদ্রোহ’ নিয়ে এবার মুখ খুললেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কালীঘাটের ঘাসফুল শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে নাম লেখানো সায়নী ঘোষের তীব্র সমালোচনা করলেন তিনি। মহুয়ার মতে, দল সায়নীকে অঢেল দিয়েছে, তবুও তাঁর এই দলবদল মেনে নেওয়া কঠিন।

কী কী ফাঁস করলেন মহুয়া?

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহুয়া মৈত্র সায়নীর রাজনৈতিক উত্থান ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন:

  • দ্রুত রাজনৈতিক উত্থান: ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলে যোগ দিয়েই মার্চ-এপ্রিলে বিধানসভার টিকিট পান সায়নী। যদিও তিনি অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন, তবে দল তাঁকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেয়—যে পদে একসময় শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতারা ছিলেন।
  • বিলাসবহুল প্রচার: মহুয়া আক্ষেপ করে বলেন, “এই নির্বাচনে আমি বোলেরো গাড়িতে ঘুরে প্রচার করেছি। কিন্তু সায়নীকে দলের পক্ষ থেকে মিটিং কভার করার জন্য হেলিকপ্টার দেওয়া হয়েছিল।”
  • যাদবপুর জয়: ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্র থেকে সায়নীকে প্রার্থী করেন। খুব কম বয়সে সায়নী যাদবপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।

মহুয়া বলেন, “যাকে দল এত কিছু দিয়েছে, সে কীভাবে এমন বিদ্রোহী হতে পারে? এটা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে খুব বড় একটা ধাক্কা।”

শুভেন্দু প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ

সায়নী প্রসঙ্গ ছাড়াও মহুয়া মৈত্র শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি যখন প্রথম করিমপুর থেকে লড়াই করেছিলাম, তখন কেউ পাশে আসেননি। একমাত্র শুভেন্দুদা আমার হয়ে প্রচার করেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘বোন, আমি তোমার পাশে আছি।’ এখন আমরা ভিন্ন আদর্শের দলে, তাই মতের অমিল থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তাঁর সেই সাহায্যের কথা আমি ভুলতে পারব না।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে যখন একে একে জনপ্রতিনিধিরা দল ছাড়ছেন, তখন মহুয়া মৈত্রের এই ক্ষোভ দলের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *