ওষুধ গবেষণায় বড় স্বস্তি! বিদেশ থেকে স্যাম্পল আনায় লাইসেন্সের ঝঞ্ঝাট তুলল কেন্দ্র

নয়াদিল্লি: দেশের ওষুধ গবেষণা ও উদ্ভাবনে গতি আনতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। ওষুধের পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের জন্য বিদেশ থেকে স্যাম্পল আমদানির দীর্ঘমেয়াদি লাইসেন্স প্রক্রিয়াকে আরও সরল করা হচ্ছে। ১৯৪৫ সালের ‘ড্রাগস রুলস’-এ সংশোধনী এনে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর এই উদ্যোগ ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’-এর ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল।
কী পরিবর্তন আসছে?
এতদিন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য বিদেশ থেকে ওষুধ আনতে ‘ফর্ম ১১’-এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি লাইসেন্সের অপেক্ষায় থাকতে হতো সংস্থাগুলোকে। নতুন ব্যবস্থায় সেই কড়াকড়ি কমছে:
- অনলাইন অ্যাকনলেজমেন্ট: নতুন নিয়মে সংস্থা বা স্টার্ট-আপগুলোকে আর লাইসেন্সের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে না। গবেষণার প্রয়োজনে সামান্য পরিমাণ ওষুধের স্যাম্পল আনার ক্ষেত্রে শুধু একটি ‘প্রায়র ইনটিমেশন’ (পূর্বแจ้ง) ফর্ম জমা দিতে হবে।
- তাত্ক্ষণিক অনুমোদন: ফর্ম জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিলবে একটি ‘অনলাইন অ্যাকনলেজমেন্ট’। এই ডিজিটাল প্রমাণপত্র দেখিয়েই বিদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করা যাবে।
কাদের জন্য এই সুবিধা?
বিশেষ করে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং স্টার্ট-আপগুলো যারা গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) যুক্ত, তারা এর ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। দ্রুত স্যাম্পল হাতে পাওয়ায় গবেষণার কাজে আর দীর্ঘ সময় নষ্ট হবে না।
সতর্কতা: কোন ক্ষেত্রে ছাড় নেই?
সব ধরনের ওষুধ আমদানিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। জনস্বার্থ ও সুরক্ষার খাতিরে কিছু সংবেদনশীল ক্যাটাগরিকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। সেক্স হরমোন, সাইটোটক্সিক ড্রাগস, বিটা ল্যাকটাম ড্রাগস, জীবন্ত অণুজীব যুক্ত বায়োলজিক্স এবং নারকোটিক বা সাইকোট্রপিক ওষুধের ক্ষেত্রে আগের মতোই বাধ্যতামূলকভাবে অগ্রিম লাইসেন্স নিতে হবে।
চলতি বছর জানুয়ারি মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ ল্যাব টেস্টের প্রক্রিয়া সহজ করার পর, এবার বিদেশের ক্ষেত্রেও একই পথে হাঁটল কেন্দ্র। আপাতত এই খসড়া বিজ্ঞপ্তির ওপর মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের ওষুধ রেগুলেটরি সিস্টেমকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করে তুলবে।
আপনি কি নতুন এই নিয়ম সম্পর্কে আরও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চান?