বর্ষায় খরা! ৪৫ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতিতে মাথায় হাত চাষি থেকে প্রশাসনের

বর্ষায় খরা! ৪৫ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতিতে মাথায় হাত চাষি থেকে প্রশাসনের

ক্যালেন্ডারের পাতায় জুনের শেষ সপ্তাহ, অথচ বর্ষার চেনা ছবির দেখা নেই। দেশের প্রায় অধিকাংশ জায়গায় মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করলেও, আকাশ প্রায় মেঘহীন। দেশের বিস্তীর্ণ অংশে এই অস্বাভাবিক বৃষ্টির ঘাটতি এখন চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত দেশে মোট বৃষ্টিপাতের ঘাটতি প্রায় ৪৫ শতাংশ। পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ গুজরাটে, যেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় ৮৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা ও দক্ষিণের বেশ কিছু রাজ্যেও বৃষ্টির চিত্রটা উদ্বেগজনক।

কেন এই খরা?

আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে শক্তিশালী কোনো নিম্নচাপ বা আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি না হওয়ায় সমুদ্র থেকে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প দেশের মূল ভূখণ্ডে ঢুকতে পারছে না। ফলে বর্ষার ছন্দ থমকে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিকাজে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের বীজতলা তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

জুলাইয়ে কি বদলাবে ভাগ্য?

তবে আশার আলো দেখাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। তাঁদের পূর্বাভাস:

  • নতুন আবহাওয়া ব্যবস্থা: ভারত মহাসাগরের নিরক্ষরেখার উত্তরে একটি বড় আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে, যা আগামী ৪-৭ দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করবে। এটি শক্তিশালী হলে প্রচুর জলীয় বাষ্প বয়ে আনবে।
  • নিম্নচাপের সম্ভাবনা: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
  • জুলাইয়ের শুরুতেই বৃষ্টির আশা: সব ঠিক থাকলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ফের গতি পাবে মৌসুমী বায়ু। পশ্চিম ভারতের বায়ুমণ্ডলে তৈরি হতে চলা ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে মহারাষ্ট্র ও গুজরাটেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে জুলাইয়ের শুরুতেই বর্ষার ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় দেশ। তবে আপাতত গোটা দেশের নজর আকাশের দিকেই— নতুন তৈরি হতে চলা এই আবহাওয়া ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *