২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ! সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা অধীর চৌধুরীর

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) নামে খামখেয়ালিভাবে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র সাধারণ ভুলের কারণে রাজ্যের প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর ফলে নাগরিক অধিকারের পাশাপাশি জরুরি সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষ।
ট্রাইব্যুনালের ধীরগতি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
সাম্প্রতিক বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় রাজ্যে প্রায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ গেছে, যার মধ্যে মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের পাশাপাশি বহু বৈধ নাগরিকও রয়েছেন। বর্তমানে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত ট্রাইব্যুনালে শুনানি চললেও প্রাক্তন সাংসদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর গতিতে এগোচ্ছে। কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মুর্শিদাবাদে মাত্র দুটি ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে এবং দিনে মাত্র ৩০ থেকে ৫০টি আবেদনের নিষ্পত্তি হচ্ছে। অধীর চৌধুরীর দাবি, এই গতিতে চললে সমস্ত মামলার নিষ্পত্তি হতে ৪ থেকে ৫ বছর সময় লেগে যাবে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে গরিব মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। তাঁরা বিভিন্ন সামাজিক ও সরকারি অনুদান থেকে সরাসরি বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলাতেই প্রায় ৫ লক্ষ ভোটারের নাম সাধারণ ভুলের কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
অধীরের মূল দাবি ও দ্রুত সমাধানের পথ
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দ্রুত শুনানির স্বার্থে শীর্ষ আদালতে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন এই কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর মূল দাবি হলো, মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে অবিলম্বে ব্লক-ভিত্তিক আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। বিপুল পরিমাণ আবেদনের চাপ সামলাতে দ্রুত আরও বেশি সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে বা বাদ যাচ্ছে, তাঁদের রায়ের কপি দেখার জন্য একটি পৃথক পোর্টাল তৈরি করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যাঁদের আবেদন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁরা যাতে চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত কোনওভাবেই নাগরিক ও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সুপ্রিম কোর্টের কাছে সেই সুরক্ষাও নিশ্চিত করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।