১৮০০ বছর ধরে জলের তলায় শিবলিঙ্গ! রহস্যে ঘেরা দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন জম্বুকেশ্বর মন্দির

তামিলনাড়ু: ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য এবং আধ্যাত্মিক রহস্যের এক অনন্য নিদর্শন তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লির কাছে অবস্থিত ‘জম্বুকেশ্বর মন্দির’। প্রায় ১৮০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরের গর্ভগৃহে থাকা শিবলিঙ্গটি বিস্ময়ের জন্ম দেয় আজও। বছরের পর বছর ধরে কেন এই শিবলিঙ্গ জলের তলায় আংশিক নিমজ্জিত থাকে, তার সঠিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আজও বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় রহস্য।
পঞ্চভূত স্থলমের ‘জল’ মন্দির
হিন্দু পুরাণে শিবের পাঁচটি বিশেষ মন্দিরকে ‘পঞ্চভূত স্থলম’ বলা হয়, যা পৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু ও আকাশ—এই পাঁচ উপাদানের প্রতীক। জম্বুকেশ্বর মন্দিরটি এই পাঁচটি তীর্থের মধ্যে ‘জল’ বা ‘অপু লিঙ্গম’-এর প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
কেন শিবলিঙ্গ আজও জলের তলায়?
এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় রহস্য হলো এর গর্ভগৃহ। শিবলিঙ্গের ঠিক নিচ থেকে প্রাকৃতিকভাবে এক অবিরাম জলধারা প্রবাহিত হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রচণ্ড গরমকালেও এই জলধারা কখনো শুকিয়ে যায় না। বিশ্বাস করা হয়, এটি একটি অলৌকিক জলধারা যা যুগ যুগ ধরে মহাদেবকে শীতল করে রেখেছে।
মন্দির ঘিরে কিছু অজানা তথ্য:
- ঐতিহাসিক ভিত্তি: খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকে চোল রাজা কোচেঙ্গাট চোল এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। মন্দিরের গায়ে খোদাই করা ১৫০টিরও বেশি শিলালিপি দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
- নামের উৎস: কিংবদন্তি অনুযায়ী, এক সময় একটি জামগাছের (জম্বু) নিচে শিবলিঙ্গ ছিল। সেখানে একটি হাতি জল ঢেলে পুজো করত এবং একটি মাকড়সা জাল বুনে লিঙ্গকে রক্ষা করত। এই ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়েই মহাদেব এখানে জম্বুকেশ্বর নামে অধিষ্ঠিত হন।
- বিরল প্রথা: প্রতিদিন দুপুরের বিশেষ পুজোয় প্রধান পুরোহিত দেবী অখিলাণ্ডেশ্বরীর সাজে (শাড়ি পরে) শিবের আরাধনা করেন। বিশ্বাস করা হয়, এখানে দেবী পার্বতী স্বয়ং তপস্যা করেছিলেন।
ইতিহাস, স্থাপত্য এবং অলৌকিকতার এমন অদ্ভুত মেলবন্ধন খুব কমই দেখা যায়। আজও হাজার হাজার ভক্ত মানসিক শান্তি ও জীবনের বাধা কাটিয়ে ওঠার আশায় জম্বুকেশ্বরের চরণে আশ্রয় নেন। দক্ষিণ ভারতের ইতিহাস গবেষণার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও এই মন্দিরটি আজও এক চরম বিস্ময়।