রাম মন্দিরে হাজার কোটির চুরিতে উদ্ধার মাত্র ৮০ লক্ষ, আড়ালে কি রাঘব বোয়ালরা?

রাম মন্দিরে হাজার কোটির চুরিতে উদ্ধার মাত্র ৮০ লক্ষ, আড়ালে কি রাঘব বোয়ালরা?

অযোধ্যার রাম মন্দিরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও গয়না চুরির ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত হিসাব-বহির্ভূত মাত্র ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। মন্দিরের দানবাক্স থেকে নগদ টাকা ও গয়না গায়েব হওয়ার এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই পদত্যাগ করেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া টাকার অঙ্ক মূল চুরির অভিযোগের তুলনায় নগণ্য হওয়ায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কীভাবে সরানো হতো প্রণামীর বিপুল অর্থ

বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) রিপোর্ট অনুযায়ী, রাম মন্দিরে নগদ প্রণামী হিসেবে জমা পড়েছে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার বেশি, যার সঙ্গে রয়েছে প্রচুর সোনা ও রুপোর গয়না। এমনকি দানে পাওয়া একটি রুপোর ভূষূণ্ডি কাকও নিখোঁজ। তদন্তে জানা গেছে, চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন গাড়িচালক টিন্নু যাদবের কাছে দানবাক্সের চাবি থাকত এবং অনুদান গোনার কাজে তিনি একপ্রকার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছিলেন। এই কাজে তাঁকে সাহায্য করতেন পিতা-পুত্র রমাশংকর মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র। অন্যদিকে, চুরি যাওয়া অর্থের ভাগবাঁটোয়ারা সামলাতেন রমাশংকরের জামাই লবকুশ মিশ্র। অভিযুক্ত আটজনকে অযোধ্যার বিশেষ আদালতে তোলা হলে তাঁদের সোমবার পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

বড় মাথারা কি অধরাই থেকে যাবে

উদ্ধার হওয়া ৮০ লক্ষ টাকা এবং নিখোঁজ হওয়া বিপুল সম্পত্তির অঙ্কের মধ্যে আকাশপাতাল পার্থক্যের কারণে নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী বা ‘রাঘব বোয়াল’দের ভূমিকা নিয়ে সংশয় জোরালো হচ্ছে। এই ঘটনার কারণে সাধারণ ভক্তদের ভাবাবেগে যেমন আঘাত লেগেছে, তেমনই মন্দির ট্রাস্টের স্বচ্ছতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ইস্যুতে সরব হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা নিতান্তই চুনোপুঁটি এবং হাজার কোটি টাকার এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বড় মাথারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই মেগা-দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত নজরদারি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে। সঠিক তদন্ত না হলে মন্দিরের আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ট্রাস্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *