তারাতলা বিপর্যয়ে প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর নথি, চরম বিপাকে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ!

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৯ জন। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ এবং ভারতীয় সেনা। তবে মর্মান্তিক এই প্রাণহানির ঘটনার মাঝেই প্রকাশ্যে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর নথি, যা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের আইনি ও রাজনৈতিক অস্বস্তি চরম মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে।
নকশা অনুমোদনে সই এবং দায়ভার বিতর্ক
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, তারাতলার ওই গুদামের নকশা ছিল সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ। প্রকাশ্যে আসা নথিতে দেখা যাচ্ছে, গত বছর মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির (এমবিসি) বৈঠকে এই নকশাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। সেই মিটিং নোটে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, নকশাটিকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অথবা মেয়রের সই আবশ্যিক। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেই সই করে সেই ত্রুটিপূর্ণ নকশায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিলেন। যদিও তাঁর দাবি, তিনি প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ নন এবং বিল্ডিং কমিটির ছাড়পত্রের পর তাঁর সই ছিল নেহাতই একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনকারী হিসেবে তিনি এই গাফিলতি ও প্রাণহানির দায় এড়াতে পারেন কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই দুর্ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার রাতেই প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। মেয়র পদ ছেড়ে ফিরহাদ হাকিম বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কালীঘাট শিবিরের মমতাপন্থী নেতারা সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষ সরাসরি দাবি তুলেছেন, গাফিলতির দায়ে ফিরহাদ হাকিমকে অবিলম্বে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হোক। সব মিলিয়ে, গুদাম বিপর্যয়ের জেরে একদিকে যেমন প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ও গ্রেফতারি শুরু হয়েছে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।