বিধাননগরের পুর-অফিসে গুপ্ত শয়নকক্ষ ও কন্ডোম উদ্ধার! ক্ষুব্ধ মন্ত্রী বললেন ‘দেখাও পাপ’

বিধাননগরের পুর-অফিসে গুপ্ত শয়নকক্ষ ও কন্ডোম উদ্ধার! ক্ষুব্ধ মন্ত্রী বললেন ‘দেখাও পাপ’

বিধাননগর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি কার্যালয়ের অন্দরে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার মতো দৃশ্য। সরকারি দফতরের ভিতরেই মিলেছে পাঁচটি এসি-সহ এলাহি এক ঘর এবং তার লাগোয়া একটি গোপন শয়নকক্ষ। শুধু খাট বা সারি সারি বালিশই নয়, সেখানকার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে মিলেছে কন্ডোমের প্যাকেটও। আসন্ন পুরভোটের প্রচারে গিয়ে খোদ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সরকারি দফতরে ‘গুপ্ত শয়নকক্ষ’

শুক্রবার সন্ধ্যায় সুকান্তনগরে বিজেপির একটি পথসভা শেষে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ওই ওয়ার্ড অফিসে প্রবেশ করেন মন্ত্রী। সেখানেই এই বিলাসবহুল গোপন কক্ষের হদিস মেলে। ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জয়দেব নস্কর আগেই ইস্তফা দিয়েছেন, বর্তমানে সেখানে প্রশাসকের শাসন চলছে। তবে সরকারি অফিসে এহেন ‘মহিলাদের ড্রেসিং টেবিল’ ও আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় স্বভাবতই প্রাক্তন কাউন্সিলরের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলছেন বিজেপি কর্মীরা। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবেই সরকারি সম্পদকে এমন ব্যক্তিগত প্রমোদকক্ষে পরিণত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুদ্ধকরণের ডাক ও রাজনৈতিক প্রভাব

দফতরের এই আপত্তিকর অবস্থা দেখে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই ঘটনাকে নৈতিক অবক্ষয় আখ্যা দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “বয়স হয়েছে, এমন জিনিস দেখাও পাপ।” এরপরই তিনি গঙ্গাজল দিয়ে পুরো কার্যালয় শুদ্ধকরণের দাবি তোলেন। আসন্ন বিধাননগর পুরভোটে এই ঘটনা শাসকদলের জন্য একটি বড়সড় রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হতে চলেছে। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই বিধাননগরের ৪১টি ওয়ার্ডেই বিজেপিকে জয়ী করার ডাক দিয়েছেন মন্ত্রী। অন্যদিকে, এই নজিরবিহীন বিতর্কের মুখে তৃণমূল নেতৃত্ব বা প্রাক্তন কাউন্সিলরের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *