মদ-মাংসের আসর আর দাদাগিরির কেন্দ্র! তৃণমূল যুবনেতার বাগানবাড়িতে চলল বুলডোজার

মদ-মাংসের আসর আর দাদাগিরির কেন্দ্র! তৃণমূল যুবনেতার বাগানবাড়িতে চলল বুলডোজার

বহরমপুর: দিনের আলোয় দাদাগিরি আর রাতের অন্ধকারে মদ-মাংসের আসর— বহরমপুরের সৈয়দাবাদ এলাকার সুড়সুড়ি মাঠ সংলগ্ন এক বিলাসবহুল বাগানবাড়ি ঘিরে এমনই অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। অবশেষে আদালতের নির্দেশে শনিবার সকালে সেই বিতর্কিত বাগানবাড়িতে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। এই বাগানবাড়ির মালিক ছিলেন তৃণমূলের যুব সভাপতি পাপাই ঘোষ।

কী ছিল ওই বাগানবাড়িতে?

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহরমপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাগানবাড়িটি ছিল পাপাই ঘোষের অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু।

  • দাদাগিরি: এলাকা দখলের হুমকি বা কাউকে শাসানোর জন্য এই বাড়িতেই ডেকে পাঠানো হতো।
  • অসামাজিক পরিবেশ: সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুগামীদের আনাগোনা লেগেই থাকত। রাতের বেলায় নিয়মিত চলত মদ্যপানের আসর।
  • আতঙ্ক: বাগানবাড়ির ভয়ে স্থানীয় মানুষ ও মহিলারা ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেও ভয় পেতেন।

জবরদখলের অভিযোগ ও আদালতের নির্দেশ

পুরসভা সূত্রে খবর, জায়গাটি আদতে হাওড়ার এক ব্যক্তির। দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকায় কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ড সেখানে শিশুদের জন্য একটি পার্ক তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে তৃণমূলের ক্ষমতা বাড়লে, অভিযোগ ওঠে যে জাল দলিল তৈরি করে ওই জায়গা দখল করেন পাপাই ঘোষ। সেখানে গড়ে তোলা হয় সুসজ্জিত বাগানবাড়ি। এলাকাবাসী কলকাতা হাইকোর্টে এই নিয়ে জনস্বার্থে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার রায় এলাকাবাসীর পক্ষেই যায়।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

মামলার রায় আসার পর শনিবার সকালে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা বুলডোজার নিয়ে হাজির হন। দীর্ঘক্ষণের অভিযানে বাগানবাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে তৃণমূল নেতা পাপাই ঘোষের মা চম্পা ঘোষের দাবি, ওই জমিতে তাঁদের বাড়ি ছিল এবং তাঁদের কাছে দলিল রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় আইন ও শৃঙ্খলার জয় হয়েছে।

বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, “অবৈধ দখলদারি আমরা রুখবই। প্রশাসনের এই পদক্ষেপই প্রমাণ করে যে রাজ্যে আইনের শাসন ফিরছে।” অন্যদিকে, কংগ্রেস কাউন্সিলর হিরু হালদার দাবি তুলেছেন, পাপাই ঘোষের মদতে দখল হওয়া পার্ক ও সুইমিং পুলের মতো অন্যান্য সরকারি জায়গাও যেন অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই পাপাই ঘোষ বেপাত্তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *