গোপন প্রেমের বলি ব্যবসায়ী কেতন, বিয়ের আগেই সুপরিকল্পিত খুন!

পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের পরিণতি। অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল তাঁর হবু স্বামী কেতনকে চিরতরে সরিয়ে দিতে প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই নির্মম খুনের ছক কষেন।
ক্রিকেট মাঠ থেকে শুরু গোপন প্রেম
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, সিয়ার দাদা সাহিলের সূত্রেই চেতনের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়। সাহিল ও চেতন বহু পুরনো বন্ধু এবং তাঁরা একসঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন। সেই সূত্র ধরে আলাপ হলেও, ২০২৫ সালের দীপাবলির পর থেকে সিয়া ও চেতনের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই পরিবারের সিদ্ধান্তে কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক হয় এবং আগামী নভেম্বরে তাঁদের বিয়ের দিনও চূড়ান্ত ছিল। পরিবারের দাবি, সিয়া এই বিয়ে নিয়ে কখনও কোনও আপত্তি জানাননি। ফলে তাঁর ও চেতনের সম্পর্কের বিষয়টি সম্পূর্ণ অগোচরেই থেকে যায়।
ছকে বাঁধা খুন ও মুছে ফেলা প্রমাণ
তদন্তকারীদের হাতে আসা কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) অনুযায়ী, গত ছয় মাসে অভিযুক্তদের মধ্যে প্রায় ২,০০৪ বার ফোনে কথা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, খুনের আগের দিন পুনের একটি ক্যাফেতে বসেই হত্যার চূড়ান্ত ছক কষা হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে সিয়ার ইশারা পেয়েই চেতন পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে কেতনকে খাদে ফেলে দেন। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা নিজেদের ফোন থেকে সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলেন। বর্তমানে সেই ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধারের জন্য মোবাইলগুলি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। মামলার প্রভাব ও গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রবীণ আইনজীবী উজ্জ্বল নিকমকে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুরো ষড়যন্ত্রের জাল গুটিয়ে আনতে এবং অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের ছয়টি বিশেষ তদন্তকারী দল বর্তমানে জোরকদমে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।