১৯৪ বছরের জোনাথনের মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি, নজিরবিহীন ভারত-সেশেলস কূটনীতিতে নজর বিশ্বের

১৯৪ বছরের জোনাথনের মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি, নজিরবিহীন ভারত-সেশেলস কূটনীতিতে নজর বিশ্বের

ভারত মহাসাগরের কৌশলগত দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্রকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত এক দশকেরও বেশি সময় পর ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সফরের সব আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণী, ১৯৪ বছর বয়সী এক দানব কচ্ছপের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সাক্ষাৎ।

ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতীকী বার্তা

সেশেলস পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম প্রথম কর্মসূচি হচ্ছে দেশটির জাতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে ‘জোনাথন’ নামের আলড্যাবরা প্রজাতির এক কচ্ছপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। প্রায় দুই শতাব্দী ছুঁইছুঁই বয়সের এই প্রাণীটির সঙ্গে মোদির সাক্ষাৎকে কেবল একটি সৌজন্যমূলক পর্ব হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। এটি মূলত জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণের বৈশ্বিক লড়াইয়ে ভারত ও সেশেলসের যৌথ প্রতিশ্রুতির একটি শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা। জোনাথনের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন, যা দুই দেশের পরিবেশগত কূটনীতিকে আরও বেগবান করবে।

কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপন

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি সেশেলসের ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক ক্ষণের সঙ্গে মিলে গেছে। দেশটির জাতীয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। এই উদযাপনে ভারতের বিশেষ সামরিক দল এবং ভারতীয় নৌসেনার দুটি যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যকার গভীর সামরিক ও কৌশলগত বিশ্বাসের প্রতিফলন।

সফরকালে সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সেশেলস সফরের পর দীর্ঘ ১১ বছরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামুদ্রিক বাণিজ্য রক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে এক নতুন ও মজবুত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিশা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *