প্রতীক বিতর্কে পুলিশের দ্বারস্থ কালীঘাট তৃণমূল, একুশের সভা নিয়ে বাড়ছে আইনি জট!

রাজ্যের রাজনীতির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার সরাসরি পৌঁছাল থানার দোরগোড়ায়। দলের নাম ও প্রতীক বেআইনিভাবে ব্যবহারের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বিরুদ্ধে জোড়া অভিযোগ দায়ের করল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক চক্রান্ত এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে কালীঘাট ও সল্টলেক থানায় এই ডায়েরি জমা পড়েছে। মূলত দলে বিভাজনের পর নিজেদের মূল স্রোত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মরিয়া চেষ্টা এবং দলের রাশ নিজেদের হাতে রাখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই অভূতপূর্ব আইনি সংঘাতের সূত্রপাত।
জালিয়াতির অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপ
এই অভিযোগ দায়েরের পর বিধানসভার বিরোধী দলের চিফ হুইপ আখরুজ্জামান ঋতব্রত শিবিরের কড়া সমালোচনা করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলির কথা স্মরণ করিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে এবং বিরোধী শিবিরের নথিপত্রের গলদ দ্রুতই জনসমক্ষে আসবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে দলের প্রকৃত উত্তরাধিকার নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র রূপ নেবে, যা রাজ্য রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
একুশের সমাবেশ ঘিরে টানাপড়েন
দলের নাম ও প্রতীকের পাশাপাশি একুশে জুলাইয়ের ‘শহীদ দিবস’ পালন নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম আইনি জটিলতা। ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে চেনা জায়গায় সভার অনুমতির জন্য কলকাতা পুলিশকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। এর মাঝেই কুণাল ঘোষের ডাকা ‘আমরা বেইমান নই’ শীর্ষক একটি কর্মিসভায় ফোনে দীর্ঘ ১২ মিনিট বক্তব্য রেখে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ২১ জুলাইয়ের একটি সভার জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে আদালতের এই আইনি জটিলতার তোয়াক্কা না করে যেকোনো মূল্যে ধর্মতলায় সভা করতে অনড় মমতাপন্থীরা। মহুয়া মৈত্রের জিপে দাঁড়িয়ে সভা করার হুঁশিয়ারি এবং খোদ নেত্রীর বার্তাতেও সেই চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। এখন কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে ধর্মতলার সভার অনুমতি মেলে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্য রাজনীতির আগামী দিনের গতিপ্রকৃতি।