ছাগল বিক্রেতা থেকে ৬৪ বিঘার রাজপ্রাসাদ, গোসাবার পলাতক তৃণমূল নেতার কীরপ্তিতে তীব্র চাঞ্চল্য!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন গোসাবা ব্লকে এক রাজনৈতিক নেতার নজিরবিহীন উত্থান এবং তাঁর বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গোসাবা ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝড়োর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বিপুল সম্পত্তি অর্জন এবং স্থানীয় মানুষের ওপর অত্যাচারের ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে আসছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই প্রভাবশালী নেতা এলাকাছাড়া হলেও তাঁর সাম্রাজ্যের খতিয়ান দেখে চোখ কপালে উঠেছে সাধারণ মানুষের।
পশু ব্যবসা থেকে দুর্নীতির রাজত্ব
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম জীবনে ছাগল ও মুরগি বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন সুবিদ আলি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শাসকদলের ছত্রছায়ায় এসে দ্রুত তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় এবং তিনি গোসাবার পাঠানখালির ‘বেতাজ বাদশা’ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তাঁর মালিকানায় রয়েছে প্রায় ৬৪ বিঘা জমি, যার মধ্যে ২৪ বিঘার ওপর রয়েছে এক বিলাসবহুল বাগানবাড়ি ও রাজপ্রাসাদ এবং বাকি ৪০ বিঘার ওপর রয়েছে বিশালাকার মাছের ভেড়ি। শুধু গ্রামীণ এলাকাতেই নয়, কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী শহরতলিতেও তাঁর একাধিক বিলাসবহুল বাড়ির সন্ধান মিলেছে। অভিযোগ, সরকারি একশো দিনের কাজের প্রকল্পের ‘কাটমানি’, তোলাবাজি, জোরপূর্বক জমি ও ভেড়ি দখল এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েই এই বিত্তবৈভব গড়ে তুলেছেন তিনি।
সামাজিক প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি সুবিদ আলির বিরুদ্ধে স্থানীয় হিন্দু মহিলাদের জোরপূর্বক বিয়ে করা এবং তাঁদের সম্পত্তি লুটে নেওয়ার মতো অত্যন্ত গুরুতর সামাজিক অপরাধের অভিযোগও সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। এতদিন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতা এবং ক্ষমতার দাপটের কারণে কোনো সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পাননি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনমানস থেকে ভয় দূর হতেই এই কুকীর্তিগুলো একে একে সামনে আসতে শুরু করেছে। এই বিপুল সম্পত্তি ও অপরাধের খতিয়ান প্রকাশ্যে আসায় সমগ্র গোসাবা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় অভিযুক্ত এই নেতা পলাতক এবং পুলিশ তাঁর সন্ধানে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ঘটনার প্রভাবে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল আসতে পারে এবং আইন শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।