বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, দিলেন খুনিদের ফাঁসির আশ্বাস!

গত ১৭ জুন রাতে হাওড়ার বাগনানে তৃণমূলের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে। শনিবার বিকেলে বাগনানের বাঁটুল গ্রামে নিহত ওই কর্মীর শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁদের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিহতের স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত ও কড়া শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শাসকদলের এক কর্মীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তদন্তে সিট ও মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত কিনারা করতে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে কাজ শুরু হয়েছে। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসি নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে তিনি কড়া বার্তা দেন। অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, নিহতের বড় মেয়েকে বাগনান ২ বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং ছোট মেয়ের পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচ বহনের ঘোষণাও করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে সুবিচারের আশায় বুক বাঁধছেন নিহতের পরিবার।
নৃশংসতার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ১৭ জুন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বাগনানের সন্তোষপুরে হামলার শিকার হন প্রশান্ত দে। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে খুন করে। খুনের পর নিহতের ফোন থেকেই পরিবারকে সরাসরি খুনের কথা জানানো হয়। এই পৈশাচিক ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্থানীয় তৃণমূল উপপ্রধান মফিজুল রহমান ঘটনার পর থেকেই পলাতক। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং গ্রামীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সিট গঠন ও মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে এই ধরনের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি কড়া প্রশাসনিক বার্তা গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।