৩৪ তারকার ভিড়েও সুপারফ্লপ ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল! জগাখিচুড়ি গল্পে চরম হতাশ দর্শক

৩৪ তারকার ভিড়েও সুপারফ্লপ ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল! জগাখিচুড়ি গল্পে চরম হতাশ দর্শক

২০০৭ সালের সফল ‘ওয়েলকাম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তি পেলেও তা দর্শকদের হতাশ করেছে। অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি, জনি লিভার, জ্যাকি শ্রফসহ মোট ৩৪ জন তারকার বিশাল সমাবেশ থাকলেও অত্যন্ত দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে ১৬৪ মিনিটের এই ছবিটি আদতে একটি জগাখিচুড়িতে পরিণত হয়েছে।

দুর্বল চিত্রনাট্য ও জোরপূর্বক হাসানোর চেষ্টা

পরিচালক আহমেদ খানের এই ছবিটি মূলত ‘দ্য প্রোডিউসার্স’ ও ‘ট্রপিক থান্ডার’ থেকে অনুপ্রাণিত। কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ফ্লপ সিনেমা তৈরির গল্পকে কেন্দ্র করে ছবির প্লট সাজানো হয়েছে। গল্পে অক্ষয় কুমারের পড়তি ক্যারিয়ার নিয়ে হাস্যরস এবং ‘হেরা ফেরি’ বা ‘মোহরা’র মতো জনপ্রিয় বলিউড ছবির রেফারেন্স বারবার টেনে আনা হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত গ্রিন স্ক্রিনের ব্যবহার, তারকাদের সংযোগহীন অভিনয় এবং জোর করে হাসানোর চেষ্টায় ছবিটি একঘেয়ে হয়ে ওঠে। কিছু পাঞ্চলাইন ছাড়া পুরো ছবিটিই কেবল সিনেমা তৈরির নামে পিকনিক বলে মনে হয়।

তারকাদের অপব্যবহার ও নেতিবাচক প্রভাব

ছবিতে জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ ও দিশা পাটানির মতো অভিনেত্রীদের কেবল শরীরী আবেদনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। দালের মেহেন্দির মতো তারকাদের উপস্থিতিও একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ঠেকেছে। হাস্যরসের মোড়কে জ্যাকি শ্রফকে দিয়ে সন্ত্রাসবাদ ও শেষে দেশভক্তির ক্লিশে ছোঁয়া যোগ করেও চিত্রনাট্যের দুর্বলতা ঢাকা যায়নি। প্রথম ‘ওয়েলকাম’ ছবি দর্শকদের যে নির্মল বিনোদন দিয়েছিল, এই তৃতীয় কিস্তি তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি। ফলে, অতি লোভে তৈরি করা এই তারকাবহুল ছবিটি বক্স অফিসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির ঐতিহ্যকেও ব্যাপকভাবে ম্লান করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *