বিজেপি নেতার বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা! সিতাইয়ে ধৃত ৪, নেপথ্যে বিধায়কের ষড়যন্ত্র?

কোচবিহার: রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে কোচবিহারের সিতাইয়ে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী আশুতোষ বর্মার বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ার অভিযোগে চার যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। বিজেপি নেতার অভিযোগ, তাঁকে খুনের উদ্দেশ্যেই ওই যুবকদের পাঠিয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া।
কী ঘটেছিল সোমবার রাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রাতে চার যুবক আশুতোষ বর্মার সঙ্গে দেখা করার নাম করে তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়। তবে তাদের হাবভাব সন্দেহজনক ঠেকলে বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা তল্লাশি শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময়ই ধৃতদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল এবং তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। এরপরই খবর পেয়ে সিতাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিরঞ্জিৎ বর্মণ, বিষ্ণুচন্দ্র বর্মণ, জয়দেব বর্মণ এবং জগৎচন্দ্র বর্মণ—এই চারজনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার এই ঘটনায় সিতাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা।
বিজেপি নেতার অভিযোগ ও পালটা বিধায়কের দাবি:
আশুতোষ বর্মার দাবি, সম্প্রতি তিনি সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়ার বিরুদ্ধে জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই আক্রোশ থেকেই বিধায়কের ঘনিষ্ঠরা তাঁকে খুনের ছক কষেছিলেন। ধৃতদের মধ্যে দু’জন বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি তাঁর।
তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া। তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর থেকেই আমি ছেলের চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে আছি। ধৃতদের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই, আমি তাদের চিনিও না।” তাঁর দাবি, জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং নির্বাচন কমিশন তদন্তের পরেই তাঁর প্রার্থিতা বহাল রেখেছিল।
ঘটনার গভীরতা বুঝে পুলিশ এখন ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনাটি সিতাইয়ের রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তাপ ছড়ালো। এই সংক্রান্ত আরও কোনো বিস্তারিত তথ্য বা অন্য কোনো বিষয়ের আপডেট আপনার প্রয়োজন?