অরুণাচলে ভারতের জমি দখল করছে চিন? আদিবাসীদের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে শোরগোল

অরুণাচল প্রদেশ: ভারতের ভূখণ্ডে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠল চিনা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। অরুণাচলের সীমান্তবর্তী এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের দাবি, ড্রাগন সেনার সন্দেহজনক গতিবিধি ক্রমাগত বাড়ছে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
আদিবাসীদের অভিযোগ কী?
স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-র পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে, গত ৬ বছরে চিনা সেনা তাদের বিস্তর জমি দখল করে নিয়েছে। অভিযোগ, গত ১০-১৫ বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চললেও, ২০২০ সাল থেকে চিনা আগ্রাসন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাদের দাবি, সীমান্ত এলাকায় চিনা সেনার ক্যাম্প তৈরির মতো কর্মকাণ্ডও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রাজ্য সরকার। অরুণাচলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মামা নাটুং সোমবার জানিয়েছেন, আদিবাসীদের তোলা এই গুরুতর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি পুরো বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখবে।
ভারতীয় সেনার অবস্থান:
অন্যদিকে, এই অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আদিবাসীদের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। সংবাদমাধ্যমের একাংশে যে সমস্ত রিপোর্ট ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনও সত্যতা নেই। ভারতীয় সেনার স্পষ্ট বক্তব্য, চিনা পিএলএ (PLA) অরুণাচলের ভেতরে প্রবেশ করে কোনও ক্যাম্প তৈরি বা জমি দখলের মতো ঘটনা ঘটায়নি।
দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এই বিপরীতমুখী দাবি-পাল্টা দাবি এখন রাজনৈতিক মহলেও উত্তাপ বাড়িয়েছে। সরকারি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের পরেই এই বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।