ধুলাগড় টোল প্লাজায় স্বস্তি! বাস মালিকদের সুবিধার্থে ফাস্ট্যাগ পদ্ধতিতে বদল আনতে চিঠি জেলাশাসকের

হাওড়া: ধুলাগড় টোল প্লাজায় ফাস্ট্যাগ (FASTag) কাটাকাটি নিয়ে বাস মালিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ নিল হাওড়া জেলা প্রশাসন। প্রতিদিনের একাধিক যাতায়াতের খরচ কমাতে ফাস্ট্যাগ ব্যবস্থায় বিশেষ সফটওয়্যার চালুর আর্জি জানিয়ে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-এর প্রকল্প অধিকর্তাকে চিঠি দিলেন হাওড়ার জেলাশাসক।
বাস মালিকদের অভিযোগ কী?
গত ২৪ জুন বাস ও মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক বৈঠকে উঠে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য:
- অতিরিক্ত খরচ: আগে স্থানীয় বাসগুলি দিনে মাত্র ২২০ টাকা এবং এক্সপ্রেস বাসগুলি ৪৫৫ টাকা নগদ টোল দিয়ে যাতায়াত করতে পারত। বর্তমানে ফাস্ট্যাগ বা ইউপিআই বাধ্যতামূলক হওয়ায় সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২৭৫ টাকা ও ৫৬৯ টাকায়।
- বারংবার টাকা কাটা: বর্তমান ব্যবস্থায় প্রতিটি ট্রিপের জন্য আলাদাভাবে টাকা কাটা হয়। দিনে একাধিকবার যাতায়াতকারী বাস মালিকদের পকেটে টান পড়ছে।
- জরিমানার ভয়: নির্দিষ্ট ব্যবস্থার বাইরে টোল দিতে গেলেই মোটা অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে পরিবহন ব্যবসায়ীদের।
জেলা প্রশাসনের প্রস্তাব:
বাস মালিকদের এই আর্থিক বোঝা লাঘব করতে জেলাশাসক এনএইচএআই-কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন:
১. এককালীন টোল ব্যবস্থা: প্রতিদিনের টোল বাবদ একটি নির্দিষ্ট অর্থ একবারে ফাস্ট্যাগ অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
২. বিশেষ সফটওয়্যার: ব্যাংকের সহযোগিতায় ফাস্ট্যাগের জন্য এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে যাতে দৈনিক যাতায়াতের খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আগামী এক মাসের মধ্যে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনএইচএআই-কে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। বাস মালিকদের স্বার্থরক্ষায় এবং পরিবহণ ব্যবসা সচল রাখতে দ্রুত সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদী জেলা প্রশাসন।
আপনার কি মনে হয় এই নতুন ব্যবস্থা চালু হলে বাস ভাড়া বা যাত্রী পরিষেবায় কোনো পরিবর্তন আসবে?