‘দরজা খুললে ৭৭ হয়ে যেত, আমরাই বন্ধ রেখেছি!’ কুণালকে পাল্টা খোঁচা ঋতব্রত-আখরুজ্জামানের

কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত চরমে। বিদ্রোহী শিবিরে ভাঙন ধরেছে বলে কুণাল ঘোষের দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দাগলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও আখরুজ্জামান। কালীঘাট শিবিরকে একহাত নিয়ে তাঁরা দাবি করলেন, সংখ্যার লড়াইয়ে তাঁরাই এগিয়ে।
যা বলেছেন আখরুজ্জামান: বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি কমেছে—কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, “অনেকেই আমাদের শিবিরে যোগ দিতে চেয়েছেন, দরজায় টোকাও দিয়েছেন। কিন্তু আমরা দরজা বন্ধ রেখেছি। আমাদের পক্ষ থেকে সুযোগ দিলে সংখ্যাটা অনায়াসেই ৭৭ হয়ে যেত।” তিনি আরও জানান, স্পিকারের কাছে তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়েছেন, তাই বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো অর্থ নেই।
ঋতব্রতর রহস্যময় আক্রমণ: বিদ্রোহী শিবিরের নেতার কথায়, “যাঁদের আমরা দলে নিতে চাইছি না, তাঁরাই এখন এসব কথা ছড়াচ্ছেন। আঙুর ফল টক—এই পরিস্থিতিতে কারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন, তা একটু খোঁজ নিলেই বোঝা যাবে।” ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবিরের নেতাদের গতিবিধির উপর নজর রাখলেই বোঝা যাবে আসল খেলাটা কী। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “গোবরে আগুন দিলে জ্বলবে না, কিন্তু ঘুঁটে হলে জ্বলবে। ঘুঁটে পোড়ে, গোবর হাসে!”
শিবিরে ভাঙন নেই: ঋতব্রত বিদ্রোহী শিবিরে ভাঙনের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ঋতব্রত স্পষ্ট জানান, প্রথমবার বিধায়ক হওয়া অনেকের শুরুতে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হলেও, এখন সবাই একজোট। তাঁর কথায়, “আমরা যে সংখ্যার কথা বলেছি, তা এক চুলও কমবে না।”
২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি: আগামী ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে উভয় শিবিরের দড়ি টানাটানি অব্যাহত। এ বিষয়ে ঋতব্রত শিবিরের মন্তব্য, “কেউ কেউ সস্তা পাবলিসিটির জন্য ফিতে দিয়ে মাপাজোক করছে। আমরা কোনো সেলিব্রিটি সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নই, বরং সত্যিকারের শহিদ পরিবারদের সম্মান দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার বিরোধী মর্যাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে এই সংখ্যার সমীকরণ এখন রাজ্য রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।