আইনজীবী নিয়োগ নিয়ে চরম নাটক! অভিযুক্ত সিয়ার দাদার বিরুদ্ধে ১০ কোটির মানহানির মামলা

পুনে: ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলের আইনি লড়াইয়ের চেয়ে এখন বেশি চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর আইনজীবী নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক। অভিযুক্ত তরুণীর আইনজীবী আশুতোষ শ্রীবাস্তব এবার সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েলকে ১০ কোটি টাকার মানহানির আইনি নোটিস পাঠালেন।
কী নিয়ে এই সংঘাত?
কেতন খুনের তদন্তের মাঝেই গত সোমবার ভাদগাঁও মাভাল আদালতে উপস্থিত হন আইনজীবী আশুতোষ শ্রীবাস্তব। তিনি দাবি করেন, সিয়া নিজেই তাঁকে আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন এবং আদালতের নথিতে সেই সংক্রান্ত সই করা ওকালতনামাও জমা দিয়েছেন। কিন্তু নাটকীয় মোড় আসে যখন সিয়া স্বয়ং বিচারককে জানান, তিনি আশুতোষকে নিয়োগ করেননি, বরং তাঁর আইনজীবী হলেন বিপুল দুশিং।
সিয়ার দাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ:
সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েলের দাবি, তাঁদের পরিবার আশুতোষকে কোনোভাবেই নিয়োগ করেনি। তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলেন, আশুতোষ শ্রীবাস্তব পরিবারের অনুমতি ছাড়াই প্রতারণামূলক উপায়ে সিয়ার সই নিয়ে কেস লড়ার চেষ্টা করছেন। এই মন্তব্যের পরেই চটে যান আইনজীবী আশুতোষ। তাঁর দাবি, এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগে তাঁর পেশাগত ভাবমূর্তি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১০ কোটির হুঁশিয়ারি:
মানহানির নোটিসে আইনজীবী আশুতোষ শ্রীবাস্তব স্পষ্ট জানিয়েছেন:
- সিয়া নিজেই তাঁকে নিয়োগ করেছেন এবং সেই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি বৈধ।
- সাহিল গোয়েলকে প্রকাশ্যে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
- অন্যথায়, মানহানির জন্য ১০ কোটি টাকা দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে খুনের ঘটনায় সিয়া গোয়েল ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। খুনের ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তের আইনজীবী নিয়োগ নিয়ে এই নতুন আইনি টানাপোড়েন এখন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মূল মামলার তদন্তের ওপর এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।