হরিয়ানায় ২২০ ফুট গভীর কুয়োয় আটকে ৪ বছরের শিশু, উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেনা ও NDRF

চণ্ডীগড়: ফের একবার অরক্ষিত বোরওয়েলের বলি হতে চলেছে শৈশব। হরিয়ানার অম্বালা জেলার বারারা এলাকার ধানৌরা গ্রামে খেলতে খেলতে ২২০ ফুট গভীর এক পাতকুয়োয় পড়ে গেল ৪ বছরের এক শিশু। মঙ্গলবার সকালের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে মাঠে নেমেছে ভারতীয় সেনা, এনডিআরএফ (NDRF) ও এসডিআরএফ (SDRF)-এর বিশেষ দল।
ঘটনাটি ঠিক কী?
মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই মাঠে গিয়েছিল নির্ভয় নামে ওই শিশুটি। পরিবারের বড়রা যখন কাজে ব্যস্ত, সেই সময় অলক্ষ্যে খেলতে খেলতে একটি খোলা বোরওয়েলের কাছে চলে যায় সে। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, কৌতূহলবশত গর্তের ভেতর উঁকি দিতে গিয়েই মাটি পিচ্ছিল থাকায় ভারসাম্য হারিয়ে শিশুটি সরাসরি ২২০ ফুট গভীর ওই কুয়োয় পড়ে যায়।
উদ্ধারকাজে বড় চ্যালেঞ্জ:
কুয়োর মুখ মাত্র ৯ ইঞ্চি চওড়া হওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে যে বিষয়গুলো উদ্ধারকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে:
- অত্যধিক গভীরতা: ২২০ ফুট গভীর গর্তের একদম নিচে শিশুটি আটকে রয়েছে।
- অক্সিজেনের অভাব: গভীর গর্তে যাতে শিশুটির শ্বাসকষ্ট না হয়, সেজন্য বিশেষ পাইপের মাধ্যমে ভেতরে অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছে।
- প্রযুক্তি ও কৌশল: ক্যামেরার মাধ্যমে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাকে সুরক্ষিতভাবে বের করে আনতে সমান্তরালভাবে মাটি খুঁড়ে বিকল্প পথ তৈরির কাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
স্মৃতিতে ‘প্রিন্স’:
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ২০০৬ সালে হরিয়ানার সেই বহুচর্চিত ‘প্রিন্স’ উদ্ধারের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেবারও দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সেনার চেষ্টায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল প্রিন্সকে। বর্তমানে নির্ভয়কে সুস্থ অবস্থায় মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়াই এখন একমাত্র লক্ষ্য উদ্ধারকারী দলের। গোটা এলাকা জুড়ে স্থানীয় মানুষজন ভিড় করেছেন এবং শিশুর প্রাণরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছেন।