মাথায় টোপর, গলায় দুর্নীতির প্ল্যাকার্ড! কাউন্সিলরকে ঘিরে ‘ডিম-মার’

রানাঘাট: জনসমক্ষে এক জনপ্রতিনিধিকে চূড়ান্ত অপমান ও হেনস্থার ঘটনায় তোলপাড় নদিয়ার রানাঘাট। দুর্নীতির অভিযোগে এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে মাথায় বরের টোপর পরিয়ে, গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতের এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছে?
স্থানীয় সূত্রে খবর, রানাঘাট পৌরসভার কাউন্সিলর জয়দীপ দত্তকে টার্গেট করে একদল বিক্ষোভকারী তাঁকে ঘিরে ফেলে। অভিযোগ, এরপরই জোর করে তাঁর মাথায় বরের টোপর পরিয়ে দেওয়া হয় এবং গলায় ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় এবং ‘ডিম থেরাপি’র মুখেও পড়তে হয় বলে অভিযোগ।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। জনপ্রতিনিধিকে এমন প্রকাশ্যে হেনস্থার দৃশ্য ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরে শুরু হয়েছে জোর তরজা—
- বিরোধী শিবিরের দাবি: এটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ বা ‘জনরোষ’-এর বহিঃপ্রকাশ।
- শাসক দলের অভিযোগ: এটি কোনো সাধারণ ক্ষোভ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে একজন জনপ্রতিনিধিকে অপমান করার চক্রান্ত। এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ অসভ্যতা।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং এভাবে কাউকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করা যে সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়, তা নিয়ে সরব হয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে সব মহল থেকেই।
এই ধরণের রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রুখতে রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিলেও, বাস্তবের ছবিটা যে কতটা উদ্বেগজনক, রানাঘাটের এই ঘটনা তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।