জঙ্গলমহলের উন্নয়নে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, আদিবাসীদের জন্য বিশেষ ভাতা ও পানীয় জলের প্রতিশ্রুতি

মুকুটমণিপুর: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম জঙ্গলমহল সফরে গিয়ে উন্নয়নের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে হুল দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানালেন।
জঙ্গলমহলের জন্য একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি:
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে আদিবাসী সমাজের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী:
- বিশেষ ভাতা ও ঘর: আদিবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ভাতা প্রদান এবং প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার।
- আর্থিক প্যাকেজ: রাজ্য বাজেটে আদিবাসী এলাকার উন্নয়নের জন্য ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
- পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন: শুভেন্দু অভিযোগ করেন, গত সরকার পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের জন্য কোনও টাকা বরাদ্দ করেনি। তাঁর সরকার এই দফতরের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যা দিয়ে জঙ্গলমহলের ৭২টি ব্লকে উন্নয়নের কাজ হবে।
- যোগাযোগ ব্যবস্থা: জামশেদপুর এবং দুর্গাপুর— এই দুই শিল্পাঞ্চলকে উন্নত সড়কপথে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান সরকার।
আগের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ:
তৃণমূল জমানার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের আমলে জঙ্গলমহলে যে অত্যাচার হয়েছে তা ব্রিটিশ শাসনকেও হার মানায়।” তিনি আরও দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে হাজার হাজার ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র বিলি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই এর তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
হুল দিবসের শ্রদ্ধা:
মুকুটমণিপুরে সিধু ও কানুর নবনির্মিত মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন আদিবাসী সমাজের কৃতি পড়ুয়া এবং শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশিষ্টজনদের সংবর্ধনাও জানানো হয়। সব মিলিয়ে, জঙ্গলমহলের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক— উভয় দিক থেকেই এদিন সক্রিয় দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে।