আদালতে বড় ধাক্কা অভিষেকের! কণ্ঠস্বরের নমুনা মামলায় সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

কলকাতা: কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় অস্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে সরে দাঁড়ানোর আগে অভিষেকের স্বস্তি তো দূরের কথা, উল্টে তদন্তকারী সংস্থার কাজ নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ অভিষেক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মামলায় কী ঘটল?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি আদালতে আবেদন করেছিলেন। সেই শুনানির সময় বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “তদন্তের স্বার্থে কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা নয়, তা তদন্তকারী সংস্থাকে বলে দিতে পারে না আদালত।” বিচারপতি এমন মন্তব্য করার পরই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে, এই আইনি লড়াইয়ে আপাতত কোনো ইতিবাচক ফল পেলেন না ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
গোটা ঘটনার প্রেক্ষাপট:
- বিতর্কিত মন্তব্য: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের এক প্রচারসভায় অভিষেক বলেছিলেন, “আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে বাঁচাতে আসে… ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে, কান ঝালাপালা করে দেব।”
- আইনি জটিলতা: এই মন্তব্যের পর উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে বাগুইআটির এক বাসিন্দা বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় FIR দায়ের করেন। তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে।
- কেন নমুনা পরীক্ষা: ওই অডিও ক্লিপের কণ্ঠস্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি না, তা নিশ্চিত করতে সিআইডি তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে চায়। এর আগে সিআইডি তাঁকে ভবানী ভবনে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।
- অভিষেকের দাবি: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তিনি ওই মন্তব্য অস্বীকার করেননি, তাই কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। এটিকে ‘হেনস্থা’ বলে অভিযোগ করেন সাংসদ।
উল্লেখ্য, আগের নোটিস অনুযায়ী ৩০ জুন কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। হাইকোর্টের আজকের এই ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ল কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।