‘এসপি এখন বিজেপির জেলা সভাপতি!’ বাংলাকে ‘পুলিশ স্টেট’ আখ্যা দিয়ে বিস্ফোরক মহুয়া

কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকারের শাসনকালে গণতন্ত্র বিপন্ন এবং বাংলা কার্যত একটি ‘পুলিশ স্টেট’-এ পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন তিনি।
মহুয়ার নিশানায় পুলিশ ও প্রশাসন:
সাংসদের অভিযোগ, বিজেপির দলীয় কর্মীরা মাঠে নেই, তাদের হয়ে সমস্ত কাজ করে দিচ্ছে পুলিশ। তিনি বলেন, “জেলায় জেলার এসপি (SP) এখন কার্যত বিজেপির জেলা সভাপতি। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল জেলা সভাপতি কে তা সবাই জানে, কিন্তু বিজেপির জেলা সভাপতি কে তা জানা নেই। কারণ সেই কাজটা তো এসপি নিজেই করে দিচ্ছেন! একইভাবে, ব্লকে ব্লকে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করছেন ওসি-রা (OC)।”
পুলিশি অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন:
সম্প্রতি তৃণমূল নেতাদের রাস্তায় মঞ্চের মাপজোক করা নিয়ে পুলিশের নোটিস এবং একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কলকাতায় দীর্ঘমেয়াদী ১৪৪ ধারা জারি করার কড়া সমালোচনা করেছেন মহুয়া। তাঁর প্রশ্ন, “গোটা দেশের ইতিহাসে এমন নজির নেই যে, রাস্তা মাপার জন্য পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আইনি নোটিস পাঠাচ্ছে! কলকাতা পুলিশ কমিশনারের এত ভয় কিসের? এটা কোন ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার?”
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অভিযোগ ও দাবি:
- ওয়ারেন্টহীন তল্লাশি: মহুয়ার দাবি, পুলিশ এখন কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই সাধারণ মানুষের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। সার্চ ওয়ারেন্ট চাইলে এসডিপিও-র মতো আধিকারিকরা বলছেন, “ওসব হিন্দি সিনেমাতেই হয়!”
- ‘ডিম থেরাপি’ নস্যাৎ: নেতাদের মুখে শোনা ‘ডিম থেরাপি’ বা ‘জনরোষ’-এর তত্ত্বকে পুরোপুরি খারিজ করে মহুয়া একে বিজেপির ‘গুণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন। এ বিষয়ে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
- আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত: দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে মহুয়ার বার্তা, “ওরা নতুন ক্ষমতায় এসে দাপট দেখাচ্ছে। ধৈর্য ধরুন, দেশের বিচারব্যবস্থা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। আইনি পথেই আমরা এর মোকাবিলা করব।”
মহুয়া মৈত্রের মতে, বাংলার মানুষ যদি আদৌ নতুন সরকারকে ভোট দিয়ে থাকে, তবে তারা নিশ্চয়ই এই অরাজকতা দেখার জন্য ভোট দেয়নি।
মহুয়া মৈত্রের এই দাবিগুলো কি আগামী দিনে তৃণমূলের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন কোনো মোড় আনতে চলেছে বলে আপনি মনে করেন?