সেবাশ্রয়ে সরকারি টাকা তছরুপের অভিযোগ! স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে ‘মারাত্মক’ দুর্নীতির পর্দাফাঁস

কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠা স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে উঠল দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। স্বাস্থ্য শিবিরের আড়ালে গরিব মানুষের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করে সরকারি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনেছে বিজেপি। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার অভিযোগ, সেবাশ্রয় ক্যাম্পে চিকিৎসার মান নিয়ে ঘোরতর অনিয়ম ছিল। তাঁর দাবি:
- ভুয়ো চিকিৎসা: সেবাশ্রয়ে আধুনিক চিকিৎসার (অ্যালোপ্যাথি) প্রেসক্রিপশন লিখতেন হোমিওপ্যাথি ও আয়ুষ চিকিৎসকরা। এমনকি জুনিয়র ডাক্তারদের দিয়েও আধুনিক চিকিৎসা করানো হতো।
- ওষুধে ঘাপলা: কিছুদিন আগেই সরিষার হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ ওষুধ পাওয়া গিয়েছিল, যাতে সেবাশ্রয়ের লোগো ছিল। সেই ওষুধগুলো নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে যেভাবে চলত জালিয়াতি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেবাশ্রয়ের এক চিকিৎসকের চাঞ্চল্যকর বয়ান অনুযায়ী, সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার টোপ দেওয়া হলেও, নেপথ্যে চলত বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতি। অভিযোগ:
১. রোগীদের এমআরআই (MRI) বা সিটি স্ক্যানের নাম করে হাসপাতালে রেফার করা হতো।
২. এই পরীক্ষাগুলো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আওতাভুক্ত না হওয়ায় রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।
৩. মার্কেটিং কর্মীরা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে ১০-১২ দিন হাসপাতালে ভর্তি রাখতেন এবং মোটা অঙ্কের বিল স্বাস্থ্যসাথী ফান্ড থেকে কাটানো হতো।
ঘুরপথে এভাবেই সরকারি প্রকল্পের টাকা তছরুপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগে আগামিকাল ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের বিরুদ্ধে বিজেপি আরও একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। যদিও এই বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।