২১ জুলাইয়ে ধর্মতলায় ‘নো-এন্ট্রি’! অনুমতি ছাড়াই রাস্তা মাপার অভিযোগে তৃণমূলের ৩ নেতার বিরুদ্ধে FIR

কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রশাসনের মধ্যে তৈরি হলো নজিরবিহীন সংঘাত। কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে জনসভার অনুমতি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিয়েছে লালবাজার। শুধু তাই নয়, অনুমতি পাওয়ার আগেই সভাস্থল পরিদর্শনের জেরে শাসক দলের শীর্ষ তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল পুলিশ।
কেন অনুমতি মেলেনি? কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ সাফ জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তিনি বলেন, “ভিক্টোরিয়া হাউসের চারপাশের এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই এলাকায় সাধারণত ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি থাকে, যা জনসভার জন্য নিষিদ্ধ। নিরাপত্তা প্রোটোকল ও পরিস্থিতির বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে FIR কেন? পুলিশের চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়ার আগেই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং বর্ষীয়ান নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ধর্মতলায় গিয়ে ফিতে দিয়ে রাস্তা মাপজোখ শুরু করেন। সরকারি অনুমতি ছাড়া এই তৎপরতাকে ‘আইন অমান্য’ হিসেবে দেখে পুলিশ। সরকারি কাজে বাধা, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং নিষিদ্ধ এলাকায় বেআইনি প্রবেশের অভিযোগে কুণাল, দোলা ও বৈশ্বানরের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়া এই আইনি পদক্ষেপের পর তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা নিয়ম মেনেই আবেদন করেছিলাম। প্রতি বছরই প্রস্তুতির তদারকি করতে আমরা অনুষ্ঠানস্থলে যাই। একে কেন্দ্র করে এমন অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা অত্যন্ত বিস্ময়কর।”
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বছরের পর বছর ধরে ধর্মতলার এই চত্বরটিই তৃণমূলের ‘শহীদ দিবস’ সমাবেশের মূল পীঠস্থান। সেখানে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, তৃণমূল কংগ্রেস হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়, নাকি অন্য কোনো বিকল্প মাঠের সন্ধানে বের হয়।