রাজ্যে কার্যকর ‘গুন্ডাদমন আইন’, পুলিশের হাতে কী কী নতুন ক্ষমতা, বিস্তারিত জেনে নিন
July 13, 20267:07 am

পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিত অপরাধ ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমনে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ় অ্যাক্ট, ২০২৬’। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
নতুন আইনের মূল বৈশিষ্ট্য ও পুলিশের ক্ষমতা:
- বিনা বিচারে আটক (Preventive Detention): জননিরাপত্তার খাতিরে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করার পরিকল্পনা করছেন বলে সন্দেহ হলে, তাঁকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত আটক রাখা যাবে।
- এলাকাছাড়া করার ক্ষমতা (Externment): পুলিশ কমিশনার বা জেলাশাসক চাইলে দাগী অপরাধীদের এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে নির্বাসিত করতে পারবেন।
- জামিন-অযোগ্য অপরাধ: এই আইনের অধীনে থাকা সমস্ত অপরাধকে ‘জামিন-অযোগ্য’ করা হয়েছে। পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারবে এবং আদালতে জামিন পাওয়া কঠিন হবে।
- সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: সিন্ডিকেট বা তোলাবাজির মাধ্যমে অর্জিত যে কোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি অধিকার দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
- ব্যপক পরিধি: সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি, জবরদখল, অবৈধ বালি ও খনি কারবার, এবং বড় ধরনের সাইবার অপরাধকেও এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় নতুন বিল: হিংসাত্মক আন্দোলন বা দাঙ্গার সময় সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট হলে তার ক্ষতিপূরণ আদায়ে গঠন করা হচ্ছে বিশেষ ‘ক্লেম কমিশন’। বিক্ষোভের নামে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ করলে অভিযুক্তদের কাছ থেকেই ওই ক্ষতিপূরণ উশুল করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতে, অতীতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। এই নতুন আইনের মাধ্যমে এবার সেই অভাব পূরণ করে রাজ্যে কঠোর শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।