রাজার হাতে সোনার ঝাঁটা! রথযাত্রার এই পবিত্র রীতির পিছনের ৩টি গভীর কারণ

রাজার হাতে সোনার ঝাঁটা! রথযাত্রার এই পবিত্র রীতির পিছনের ৩টি গভীর কারণ

পুরীর রথযাত্রা মানেই ভক্তদের এক বিশাল জনসমুদ্র। তবে রথের রশিতে টান পড়ার ঠিক আগে সেখানে এমন এক দৃশ্য দেখা যায়, যা ভক্তদের চোখে জল এনে দেয়। রাজ্যের অধিপতি হয়েও পুরীর গজপতি মহারাজ নিজে একটি সোনার ঝাঁটা হাতে তুলে নেন এবং জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার রথের সামনের রাস্তা পরিষ্কার করেন। চারদিকে শঙ্খধ্বনি ও “জয় জগন্নাথ” রবের মধ্যে পালিত হওয়া এই পবিত্র রীতির নাম “ছেরা পহরা”

সাধারণ বাঁশ, তামা বা রুপোর বদলে রাজা কেন মহামূল্যবান সোনার ঝাঁটা ব্যবহার করেন, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। এর নেপথ্যে নিছক ঐশ্বর্য প্রদর্শন নয়, লুকিয়ে রয়েছে ৩টি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ কারণ:

  • ১. ভক্তি এবং অহংকার ত্যাগ: পুরীর রাজা নিজেকে শাসক নয়, বরং জগন্নাথ দেবের “দাসানুদাস” বা দাসের দাস মনে করেন। সোনার ঝাঁটা হাতে নিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে এই বার্তাই দেন যে— রাজমুকুট, ক্ষমতা বা প্রতিপত্তি ভগবানের সেবার কাছে একেবারেই তুচ্ছ। প্রভুর সামনে রাজা তাঁর সমস্ত অহংকার ত্যাগ করে এক সাধারণ সেবকে পরিণত হন।
  • ২. পরম পবিত্রতা রক্ষা: হিন্দু শাস্ত্রে সোনাকে সবচেয়ে পবিত্র ধাতু হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এতে কখনও মরচে ধরে না বা কালো হয় না। ভগবান জগন্নাথ হলেন “দারুব্রহ্ম”। তাই তাঁর যাত্রাপথকে সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত ও পবিত্র রাখতেই এই সোনার ঝাঁটার ব্যবহার। এটি প্রতীকীভাবে বোঝায় যে, প্রভুর পথে যেন কোনও হিংসা বা জাতপাতের ধুলো না থাকে।
  • ৩. সমতা ও ভেদাভেদ দূরীকরণ: রাস্তা পরিষ্কার করার পর রাজা সেই সোনার ঝাঁটা জলে ডুবিয়ে চার বর্ণের মানুষের ওপর ছিটিয়ে দেন এবং সমাজের নিচু জাতের মানুষের পা ধুইয়ে দেন। রথের এই দিনগুলোতে ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু কোনও ভেদাভেদ থাকে না, সবাই জগন্নাথের সন্তান। এর মাধ্যমে রাজা বুঝিয়ে দেন, ক্ষমতার আসল অর্থ শাসন নয়, বরং নিঃস্বার্থ সেবা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *