পুণ্যার্থীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি! তীর্থক্ষেত্র উন্নয়নে ১,০০০ কোটির মেগা প্রজেক্ট মুখ্যমন্ত্রীর
July 13, 20265:02 pm

রাজ্যে ধর্মীয় পর্যটন ও তীর্থক্ষেত্রগুলির সার্বিক বিকাশে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তিনি রাজ্যে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ গঠনের কথা জানিয়ে ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়নে মোট ১,০০০ কোটি টাকা মেগা বাজেটের কথা ঘোষণা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার মূল আকর্ষণগুলি হলো:
- শ্রাবণী মেলায় বিশেষ চমক: তারকেশ্বরের পরিকাঠামো উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত পুণ্যার্থীদের জন্য প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর ‘সেবা কেন্দ্র’ তৈরি হবে, যেখানে বিশ্রাম ও পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার সরকারি হেলিকপ্টার থেকে জলযাত্রীদের ওপর গোলাপের পাপড়ি বর্ষণ করা হবে।
- রথযাত্রা কমিটিকে অনুদান: পুরোনো রথের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাজ্যের ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে (মোট ৩ কোটি টাকা) আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে। রথযাত্রাকে ভবিষ্যতে আরও বড় উৎসবে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার।
- প্রাচীন মন্দির সংস্কার: মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী-সহ রাজ্যের ঐতিহাসিক মন্দিরগুলির হেরিটেজ সংরক্ষণের কাজ আগামী দু’বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। শ্রাবণ মাস জুড়ে জলপাইগুড়ির জল্পেশ এবং জয়ন্তীর মন্দিরেও পুণ্যার্থীদের জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্প, পুলিশি সহায়তা ও ওআরএস-এর বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে।
- মঠ ও মিশনকে সহায়তা: ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে এবার থেকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি, সিমলায় স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থানের সার্বিক উন্নয়নে ৫ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বহুমুখী উদ্যোগ রাজ্যের ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা ও পর্যটন শিল্পকে এক নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।