বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী বদল: ৮১ হাজার স্কুল হবে বিশ্বমানের, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
July 13, 20267:37 pm

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। সল্টলেকের বিকাশ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) বাস্তবায়নের বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান ঘোষণা ও সংস্কারসমূহ:
- বিশ্বমানের বিদ্যালয়: রাজ্যের ৮১ হাজার বিদ্যালয়কে বিশ্বমানের করে তোলা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ থেকে মুক্ত করে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ফেরানোর কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- মিড ডে মিলের আধুনিকীকরণ: রান্নার ক্ষেত্রে কাঠ বা কয়লার উনুনের পরিবর্তে এখন থেকে প্রতিটি সরকারি স্কুলে আধুনিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবে।
- পরিকাঠামোগত উন্নয়ন: প্রতিটি স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য আধুনিক ওয়াটার পিউরিফায়ার বা অ্যাকোয়া গার্ড বসানো হবে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে ও পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারে প্রতিটি বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এছাড়া শৌচাগার ও স্কুল চত্বরের পরিচ্ছন্নতায় কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
- জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP): দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত এনইপি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে সেমিস্টার ও ক্রেডিট সিস্টেম চালু করে বাংলার শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আরও দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
- ডিজিটাল রূপান্তর: গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার ও ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে পড়ুয়াদের স্কুলছুট হওয়ার প্রবণতা রোধ করা যায়।
- দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ: আগের সরকারের আমলের নিয়োগ দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কলঙ্ক মুছতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মেধাতালিকার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে শিক্ষক নিয়োগ ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক কড়াকড়ি: শিক্ষা দফতরের খোলনলচে বদলে ফেলতে প্রতিটি জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (DI) কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন থেকে ফাইলবন্দি কাজে সীমাবদ্ধ না থেকে আধিকারিকদের সরাসরি স্কুল পরিদর্শন করতে হবে। স্কুলের পঠনপাঠন ও পরিকাঠামোর লাইভ ডেটা সরাসরি বিকাশ ভবনের সেন্ট্রাল ড্যাশবোর্ডে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা যায়।