রথযাত্রায় ৬০টি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকার অনুদান, হেরিটেজ মন্দির সংস্কারে ১০০০ কোটির প্যাকেজ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রাচীন রথযাত্রা ও ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলির রক্ষণাবেক্ষণে সরকার এবার সরাসরি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান ঘোষণাগুলি এক নজরে:

  • রথযাত্রায় অনুদান: কয়েক দশক ধরে চলে আসা রাজ্যের ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মূলত পুরনো রথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যই এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • সেবাকেন্দ্র: মাহেশ ও মহিষাদলের মতো রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা প্রাঙ্গণে সরকারি ‘সেবাকেন্দ্র’ খোলা হবে, যা পুণ্যার্থীদের ন্যূনতম পরিষেবার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
  • ১০০০ কোটির প্যাকেজ: রাজ্যের প্রাচীন ও হেরিটেজ মন্দিরগুলির পুনর্সংস্কারের জন্য ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ তৈরি করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী মন্দির-সহ অন্যান্য মন্দিরের উন্নয়নের জন্য বর্তমান অর্থবর্ষে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ:

  • রামকৃষ্ণ মিশন ও ভারত সেবাশ্রম: ভারত সেবাশ্রম সংঘের হাসপাতালগুলিকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রামকৃষ্ণ মিশনের শিক্ষা ও কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
  • স্বামীজির জন্মভিটে: শিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫ কোটি টাকার ‘করপাস ফান্ড’ ঘোষণা করা হয়েছে।
  • শ্রাবণী মেলায় চমক: তারকেশ্বর, জল্পেশ ও জয়ন্তী— এই তিন পুণ্যভূমিতে শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার ঘোষণা করা হয়েছে। শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পথে প্রতি ৫ কিমি অন্তর বিশেষ সরকারি শিবির থাকবে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘোষণা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে শ্রাবণের প্রতি সোমবারে তারকেশ্বরগামী পুণ্যার্থীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে।

আগামী ১৪ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী নিজে তারকেশ্বর ধামে এবং ১৬ তারিখ ইসকনের রথযাত্রা উৎসবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *