‘গুন্ডাদমন আইন’ নিয়ে হাই কোর্টে মামলা, সাধারণ মানুষের অধিকার খর্বের আশঙ্কায় সরব আবেদনকারী

পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ ও সংগঠিত অপরাধ দমনে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ‘গুন্ডাদমন আইন’ (ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টিসোশাল অ্যাক্টিভিটিজ় অ্যাক্ট, ২০২৬)-কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আদালত মামলাটি দায়ের করার অনুমতি দেয়। চলতি সপ্তাহেই এর শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন এই বিরোধিতা? আবেদনকারী আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, এই আইনের ফলে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব হতে পারে। তাঁর দাবি, আইনের অপপ্রয়োগ করে পুলিশ যে কোনো সময় যাকে ইচ্ছা ফাঁসিয়ে দিতে পারে এবং পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নতুন আইনের কঠোর বিধিনিষেধ:
- বিনা বিচারে আটক: জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক মনে হলে বা অপরাধের চক্রান্তের সন্দেহে কোনো ব্যক্তিকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে।
- এলাকাছাড়া করার ক্ষমতা: জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকরা অপরাধীকে নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কার করতে পারবেন।
- জামিন-অযোগ্য ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: আইনের আওতায় অপরাধগুলিকে জামিন-অযোগ্য করা হয়েছে এবং পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবে। এছাড়া, সমাজবিরোধী কার্যকলাপের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইন অনেকটা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’-এর (NSA) মতো, যা প্রশাসন ও পুলিশের ক্ষমতাকে ব্যাপক মাত্রায় বাড়িয়ে দেবে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: আইনটি কার্যকর হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্পষ্ট মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্যে “কমিউনিস্ট হার্মাদ এবং তৃণমূলী গুন্ডাদের জব্দ করার জন্যই” এই আইনের প্রয়োজন ছিল।