কলকাতার নতুন মানচিত্র: ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০০ ওয়ার্ডের পথে কলকাতা পুরসভা, ৩১ জুলাই প্রকাশ খসড়া

কলকাতা: কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক মানচিত্র বদলের তোড়জোড় শুরু করেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে ১৪৪টি ওয়ার্ড থাকলেও, নতুন পুনর্বিন্যাসের ফলে তা বেড়ে প্রায় ২০০টি হতে পারে। পুর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই এই নতুন ২০০টি ওয়ার্ডের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা।
পুনর্বিন্যাসের মূল উদ্দেশ্য: কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ও কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার রাখা নিশ্চিত করাই এই পুনর্বিন্যাসের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে শহরের ওয়ার্ডগুলোতে ভোটার সংখ্যার ব্যাপক অসামঞ্জস্য রয়েছে। কোথাও ভোটারের সংখ্যা ৮০ হাজারের বেশি, আবার কোথাও তা মাত্র ১২-১৫ হাজার। এই বৈষম্য দূর করে প্রতিটি ওয়ার্ডের মধ্যে ভারসাম্য আনাই এই প্রক্রিয়ার প্রধান উদ্দেশ্য।
কী কী বদল আসছে?
- ওয়ার্ড বিভাজন: যেসব ওয়ার্ডের আয়তন অনেক বড় বা যেখানে ভোটারের সংখ্যা অতিরিক্ত, সেগুলিকে ভেঙে একাধিক নতুন ওয়ার্ড তৈরি করা হবে।
- বরোর সংখ্যা অপরিবর্তিত: ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়লেও কলকাতার ১৬টি বরোর সংখ্যা একই থাকছে।
- বুথ বিভাজনে নিষেধাজ্ঞা: পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, কোনো ভোটকেন্দ্র বা বুথ ভেঙে একাধিক ওয়ার্ডে ভাগ করা যাবে না। একটি পুরো বুথ এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত হতে পারে, কিন্তু ভোটারের বিভাজন করা যাবে না।
- বিধানসভা সীমানা: নতুন ওয়ার্ডগুলো তৈরি হবে নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানার মধ্যেই। অর্থাৎ, এই পুনর্বিন্যাস শুধুমাত্র পুরসভার ওয়ার্ডের জন্য কার্যকর, বিধানসভার সীমানায় কোনো পরিবর্তন হবে না।
- পুর এলাকার আয়তন: কেএমসি-র মোট ২০৬.০৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রশাসনিক কাজের সুবিধা এবং নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই এই নতুন সীমানা নির্ধারণ।
সম্প্রতি পুরসভার বিশেষ কমিশনারের নেতৃত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ১৬টি বরোর প্রতিনিধিদের এই কাজের নীতি ও সমীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বরোর জন্য আলাদা কমিটি গঠন করে এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।