‘যোগীজিকে দেখেই অনুপ্রাণিত’, কাশীর আদলে তারকেশ্বর সাজানোর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

তারকেশ্বর: উজ্জয়িনীর মহাকাল বা বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের ধাঁচেই এবার সাজিয়ে তোলা হবে তারকেশ্বর ধাম। মঙ্গলবার শ্রাবণী মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট জানান, তারকেশ্বরকে আন্তর্জাতিক মানের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।
এদিন রুদ্রাক্ষের মালা ও কপালে তিলক পরে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। হাতে বিশাল ত্রিশূল নিয়ে তিনি তারকনাথের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। শ্রাবণী মেলাকে জাতীয় স্তরের মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “এতদিন আগের সরকার চোখ বন্ধ করে ছিল, কিন্তু এখন আর কোনো বৈষম্য নয়। তারকেশ্বর ধামকে আন্তর্জাতিক তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
তৃণমূল জমানায় তোষণ এবং অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাঁক কাঁধে ৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে ভক্তরা আসেন। আগের সরকার কেবল সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করেই দায় সেরেছিল। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, সরকার কোনো একচোখ বন্ধ করে চলতে পারে না।”
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উন্নয়নমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেন্দু জানান, তাঁর কাছ থেকেই তিনি অনুপ্রাণিত। তিনি ঘোষণা করেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে প্রতি সোমবার পুণ্যার্থীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। এছাড়া শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর ভক্তদের জন্য থাকবে সরকারি সেবাকেন্দ্র, যেখানে জল ও ওআরএস-এর ব্যবস্থা থাকবে।
পর্যটনের প্রসারে তীর্থ সার্কিট তৈরির পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিরীটেশ্বরী, মদনমোহন জিউ, জল্পেশ এবং তারাপীঠকে নিয়ে এই সার্কিট সাজাতে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মাত্র ৬৫ দিনের নতুন সরকারের কাজে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, তবে তা দ্রুত সংশোধন করে সব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।